নাজমুল হাসান (রূপগঞ্জ প্রতিনিধি)
মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য হাসপাতালটি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ডিএনডি বাঁধ এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা যায়, যা হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়ে । এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগে পড়ছেন বলে জানা গেছে।প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে হাসপাতালের চারপাশে এখন শুধু পানি আর পানি। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কগুলো ডুবে যায়। মুষলধারে বৃষ্টি হলে সড়কে ২-৩ ফুট পানি হয়। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামগঞ্জ থেকে আগত রোগী ও রোগীর সঙ্গে আসা স্বজন ও চিকিৎসকরা।প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে হাসপাতালের চারপাশ পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশার উপদ্রব। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে পানিবাহিত রোগের সম্ভাবনা।ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে লোকজনকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে দেখা গেছে। ভর্তি রোগী ও রোগীর সাথে থাকা লোকজন সবচাইতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। পানিতে চারদিক টই টুম্বুর হাসপাতালটিকে দেখে মনে হচ্ছে যেন কোন একটি দ্বীপের মাঝে গড়ে ওঠা ভবন। হাসপাতালের মূল ফটক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত সবগুলো ভবনের সিঁড়ি পর্যন্ত পানিতে ডুবে রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় পানি এড়িয়ে চলতে কাঠের পাটাতন দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কাপড় ভিজিয়ে বেশিরভাগ মানুষ সেবা নিতে আসছেন এখানে। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত নার্স,আয়া, অন্যান্য স্টাফদের পানিতে হেঁটে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের পাশের শামীমবাগ এলাকার বাসিন্দা সফর আলী ভূঁইয়া জানান, আশেপাশে বেশ কিছু মাছের খামার রয়েছে তারা বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে এজন্য জলাবদ্ধতার সমস্যা হয়।
শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নামে স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা ওয়াসার নিষ্কাশন পাম্পগুলো ঠিকমতো সচল না রাখায় এই জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এমদাদুল হক জানান, পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে, চারদিকে নিম্নাঞ্চল হওয়ায় জলাবদ্ধতা সমস্যা হচ্ছে।
ডিএনডি নিস্কাশন ক্যানেল এর দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহমেদ জানান,গত দশ বছর এই প্রকল্পটির দ্বায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে, আমরা গত জুলাই মাসে দ্বায়িত্ব বুঝে পেয়েছি।যে সকল স্থানে ক্যানেল ভরাট আছে তথ্য পেলে সেগুলো আমরা অবশ্যই ক্লিয়ার করব, শীঘ্রই মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ-স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এলাকায় আমার লোক গিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
তবে জলবদ্ধতা এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষূ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন
আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে বিরোধীদের ঝড়
সোনাইমুড়ীতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার
সোনাইমুড়ীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা