আবারও আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে ইরানের, তাই দেশকে ভেতর থেকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) তেহরানে এক সমাবেশে যুদ্ধ সম্পর্কে সতর্ক এই আহ্বান জানান তিনি।
বাঘের গালিবাফ বলেন, বর্তমান সময়ের পরিস্থিতি, আঞ্চলিক গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে বুঝতে না পারলে ইরান বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ন্যাটো এবং কিছু আঞ্চলিক দেশের সামরিক সক্ষমতা এখন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
গালিবাফ উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিল। আজও এই সক্ষমতাগুলো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত। তিনি বলেন, ইরানের ওপর বহির্বিশ্বের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি সরকারকে ‘একবিংশ শতাব্দীর নতুন নাৎসিবাদ’ আখ্যা দিয়ে গালিবাফ দাবি করেন, অভূতপূর্ব চাপে পড়েছে তেলআবিব। সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনীর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দূর করা হয়েছে এবং শক্তিগুলো আরও জোরদার করা হয়েছে। এখন ইরানি বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত।
গালিবাফ আরও বলেন, ‘আমাদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের সমর্থন দেশকে অস্থিতিশীল বা বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিয়েছে। জাতীয় ঐক্য ভবিষ্যতের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ শক্তি।’
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পর যুক্তরাষ্ট্র নাটাঞ্জ, ফোর্ডো ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
প্রত্যুত্তরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৩’ এর আওতায় ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ২২ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইসরায়েলের প্রতি মার্কি ন সমর্থনের কারণে তেহরান কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতেও হামলা করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
এনএনবাংলা/
আরও পড়ুন
জামিন মেলেনি, লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
অক্টোবরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু: শেখ বশিরউদ্দীন