Saturday, September 20th, 2025, 5:39 pm

আমাদের দাবি পিআর মানতে হবে : রংপুরে  জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল 

রংপুর ব্যুরো:

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল  মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিরোধীদলকে দমন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন যারা দেখেন সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। সাহস থাকলে গণভোট দেন। জনগণের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা রাখি। গায়ের জোরে কিছু ঠেলে দিয়ে চলে যাবেন তা হবে না।’ মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের দাবি পিআর মানতে হবে। সার্ভেতে ৭০ ভাগ মানুষ পিআরের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না করে বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে যদি আবার নির্বাচন হয় তাহলে আর একটি হাসিনার জন্ম হবে, আর একটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। বাংলার মানুষ তা হতে দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘যখনই পিআর পদ্ধতির কথা বলি তখনই আপনি সংবিধান দেখান। সংবিধান মানলে তো আপনি যে চেয়ারে বসে আছেন সেটা অবৈধ। সংবিধান মানলে তো শেখ হাসিনার সংবিধান অনুযায়ী ২৪ এরপর পাঁচ বছর পর ২৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাহলে ২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা কেন বলছেন?’

মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের দাবি পিআর মানতে হবে। সার্ভেতে ৭০ ভাগ মানুষ পিআরের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। ঐকমত্য কমিশনে ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে রয়েছে। একটি দলের কেউ কেউ বলছেন, পিআর খায় না মাথায় দেয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এটা বলতে পারে না। তাই পিআর বাস্তবায়নের জন্য গণভোট দিন। রায় পিআরের পক্ষে আসে নাকি বিপক্ষে আসে যাচাই করুন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি পিআর মানে তাহলে আপনাদেরও মানতে হবে। আর জনগণের রায় যদি পিআরের বিপক্ষে যায় তাহলে আমরা জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবো। কিন্তু তারা তো গণভোটকে ভয় পাচ্ছে। পিআরের মধ্য দিয়ে সবার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যদি পেশিশক্তি ও কালো টাকামুক্ত কোয়ালিটি পূর্ণ পার্লামেন্ট হয়, সরকার গঠন হয়, তাহলে কোনো দলের পক্ষে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই, তাই তারা পিআর ঠেকাতে চায়।

মহানগর জামায়াদের আমীর এটিএম আজম খাসেনর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ,“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী”র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগেই এই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না।”

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেছেন- আমি কখনও ঝাড়–য়ার বিল আসিনি এবং চিনি না অথচ আমাকে মিথ্যা আসামী বানিয়ে, মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ৮ বছর আমি ফাঁসির কন্ডেম সেলে বন্দী ছিলাম । গত জুলাই- আগষ্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিজয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে । আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন  বলেই আজ আপনাদের সামনে কথা বলতে পারছি ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেণ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর–দিনাজপুর সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, টিম সদস্য আব্দুর রশিদ, আজিজুর রহমান স্বপন ও আব্দুল হাকিম। এছাড়া রংপুর অঞ্চলের আট জেলার জেলা আমির ও সেক্রেটারিগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।