Monday, December 29th, 2025, 3:17 pm

আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না মাহফুজ আলম

 

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নামে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না—এমন সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভাই ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। তিনি জানান, মাহফুজ আলমের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই আবেগপ্রবণ কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী তার নামে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, যা তাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে। এ কারণে মাহফুজ আলম মনোনয়নপত্র জমা দেবেন না এবং এবারের সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেবেন না।

মাহবুব আলম আরও বলেন, মাহফুজ আলমের অজান্তে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, ইসলামী সমমনা জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে মাহফুজ আলম আপাতত কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি বলেও জানান তিনি। জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তার নামে ফরম সংগ্রহ করা হলেও সেটি কেবল শুভাকাঙ্ক্ষীদের অতিউৎসাহের বহিঃপ্রকাশ—এমনটাই পরিবার ও দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এ আসন থেকে মাহফুজ ও মাহবুব আলম ছাড়াও মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ। পাশাপাশি বাসদ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রামগঞ্জ এলাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহফুজ আলমের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মাহবুব আলমের অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। তবে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতো শক্তিশালী দল মাঠে থাকায় এখানে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, মাহফুজ আলমের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্বাচনে না আসার ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে। শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় থাকবেন, তা জানা যাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে।

এনএনবাংলা/