অনলাইন ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচকে রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়া। হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছে এবং এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। গার্শকোভিচ সোভিয়েত-পরবর্তী রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম বিদেশি সাংবাদিক বলে মনে করা হচ্ছে। ৩১ বছর বয়সী গার্শকোভিচ যখন শিশু ছিলেন, তখন তার পরিবার রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিল। গার্শকোভিচ পুরোপুরি রুশ ভাষায় পারদর্শী। গত বছরের শুরুর দিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মস্কোতে এএফপির হয়ে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য মস্কো টাইমসেও কাজ করেছেন তিনি। মস্কো থেকে প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরের শহর ইয়েকাতেরিনবার্গ থেকে গার্শকোভিচকে আটক করে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২৯ মে শুনানির আগ পর্যন্ত তাকে সেখানেই রাখা হবে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, গার্শকোভিচ রাশিয়ার ওয়্যাগনার গ্রুপ নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে এই বাহিনী রাশিয়ার হয়ে লড়ছে। তবে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস এফএসবি বলছে, গার্শকোভিচকে রুশ সামরিক বাহিনীর ‘গোপন তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করার সময়’ গ্রেপ্তার করা হয়। ক্রেমলিন ও রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গার্শকোভিচকে ‘হাতেনাতে ধরা’ হয়েছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে জানায়, গার্শকোভিচ যে ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেগুলো ‘টপ সিক্রেট’ ছিল। আর গার্শকোভিচ বলেছেন, তিনি গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, তারা গার্শকোভিচের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ গার্শকোভিচ ‘মার্কিন সরকারের স্বার্থে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন’ বলে রাশিয়ার এফএসবি যে অভিযোগ করেছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অপরাধ প্রমাণিত হলে গার্শকোভিচের সর্বোচ্চ ২০ বছরের জেল হতে পারে। হোয়াইট হাউস গার্শকোভিচকে আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের রাশিয়ায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর যারা এখন রাশিয়ায় আছেন, তাদেরকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রাশিয়া ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। গার্শকোভিচের বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারিন জ্যঁ-পিয়ের। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ‘ক্রমাগত উপেক্ষা’র সমালোচনা করেছে। পশ্চিমা সাংবাদিকরা ক্রমাগত রাশিয়ায় বাধার মুখে পড়ছেন। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরের বাইরে কাজ করতে গেলে পশ্চিমা সাংবাদিকদের পিছু নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পশ্চিমা গণমাধ্যমের কর্মীরা। অনেক রুশ নাগরিকও পশ্চিমা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পান। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে কঠোর সেন্সরশিপ আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গার্শকোভিচকে আটক করে মস্কো পশ্চিমা বিশ্বে আটক থাকা তাদের কোনো বন্দির বিনিময় করতে চায় বলে অনেকে মনে করছেন। গত এক বছরে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এ ধরনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দি বিনিময় হয়েছে। রাশিয়ায় এখনও বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিক বন্দি আছেন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে কয়েকজন রুশ সাংবাদিককেও দেশটিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছর ইভান স্যাফরোনভ নামের একজন শীর্ষস্থানীয় রুশ সাংবাদিককে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে ২২ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর প্রথমবার জনসমক্ষে খামেনি
বিমানে ২০০ জনকে সীমান্তে আনলো ভারত, টার্গেট বাংলাদেশে ‘পুশইন’
নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা ইলন মাস্কের