টাঙ্গাইল:
যমুনা নদীর পানি কমে গিয়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ঘাস এখন হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের হাজারো দরিদ্র মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।
ভূঞাপুর, কালিহাতী ও গোপালপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল বসে ঘাসের হাট। বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে নেপিয়ার, দুর্বাঘাস, গর্বাঘাস, কাঠাঁলপাতাসহ নানা প্রজাতির ঘাস। এক একটি আঁটি ঘাস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা দামে।
স্থানীয় ঘাস বিক্রেতারা জানান, শুধু ন্যাংড়া বাজারেই প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ঘাস কেনাবেচা হয়। পুরো এলাকার মাসিক ঘাস বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। এই ঘাস বিক্রির মাধ্যমে চরাঞ্চলের বহু দরিদ্র পরিবার তাদের সংসার চালাচ্ছেন, এমনকি শিক্ষার্থীরাও পরিবারে অর্থনৈতিক সহায়তা করছে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান বলেন, “বন্যার পর যমুনা চরে প্রাকৃতিকভাবে ঘাস উৎপন্ন হয়। স্থানীয় দরিদ্র জনগণ তা সংগ্রহ করে পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ও বাজারে বিক্রি করছে। এতে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছে।”
বিনা মূলধনে এই ঘাস সংগ্রহ ও বিক্রি একটি আত্মনির্ভরশীল পেশায় পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকার ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এক সময় যেসব বাজারে টাটকা মাছ বিক্রি হতো, আজ তা পরিচিতি পেয়েছে ‘ঘাসের বাজার’ হিসেবে। এই পরিবর্তন চরবাসীর জন্য জীবনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন
ভালোবাসার টানে দক্ষিন আফ্রিকার তরুনী ছুটে এলেন মাদারীপুরে!
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাবের দোয়া মাহফিল
লক্ষ্মীপুরে পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে দুই ব্রিকফিল্ডের কার্যক্রম চলছে: ঝুঁকিতে ৩ হাজার শিক্ষার্থী