টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জলাভূমি ‘চারান বিল’ আজ ধ্বংসের মুখে। শত বছরের প্রাকৃতিক জলাশয়টি দেশের অন্যতম মৎস্য অভয়াশ্রম হলেও এখন সেখানে দিনরাত চলছে অবাধ মাছ আহরণ।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বছরে ৬ মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ। কিন্তু তা মানছে না কেউ। চায়না দোয়ারীসহ নানা অবৈধ জালের ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন। দিনে-রাতে মিলে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি জাল পাতা থাকে বিলে। এতে বিলের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ছে।
বিলটি ঘিরে গড়ে উঠেছে দুটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৩০ জন। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকশ মানুষ মাছ ধরেই জীবন-জীবিকা চালায়। একসময় এই বিলে বাতাসি, রিটা, বাইম, বোয়াল, রুই, কাতল, গজার, চিতল, মৃগেলসহ প্রায় ২০-৩০ ধরনের দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন সে সংখ্যা একেবারে হাতে গোনা।
স্থানীয় জেলে কবীর জানান, “বিল আগে ৫ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, এখন বর্ষায় মাত্র ৭-৮ বিঘা পানিতে প্লাবিত হয়। অতিরিক্ত চায়না জাল ব্যবহারে মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে। এভাবে চললে সামনে আর মাছ থাকবে না।”
বিলের পরিবেশ দূষণের আরেক উৎস পাশের বল্লা গ্রামের তাঁত শিল্প। সেখানকার কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পানিতে ফেলে দেয়ায় জলজপ্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পর্যটকদের ব্যবহৃত নৌকাগুলো থেকে পানিতে পড়ছে নানা ধরনের আবর্জনা।
কালিহাতী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী জানান, “অবৈধ জাল ব্যবহারে মাছের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আইন প্রয়োগ করছি, মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে এবং মাছের পোনা ছাড়া হয় নিয়মিত।”
সিএনআরএস ও জাইকার উদ্যোগে একসময় কিছু প্রকল্প শুরু হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি পদক্ষেপ না নিলে বিলটির অস্তিত্ব থাকবে না।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, “জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রধান কারণ মানুষের তৈরি সমস্যা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে এ অবস্থা আরও খারাপ হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম জানান, “চায়না জাল ধ্বংসে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।”
চারান বিলের টিকে থাকা এখন নীতিনির্ধারকদের কার্যকর উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে। প্রাকৃতিক প্রবাহ ফেরাতে এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করে বিলকে বাঁচাতে হবে – এখনই।

আরও পড়ুন
উলিপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ভাঙ্গুড়ায় প্রচন্ড শীতেও মধু সংগ্রহ করছেন মৌ খামারীরা
বোরহানউদ্দিনে ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক পাচারকারী গ্রেফরার