জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালমান এফ রহমানসহ মোট ৯৪ জনের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি কয়েকটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, বে সিটি অ্যাপারেলস, ইয়েলো অ্যাপারেলস, পিংক মেকার ও অ্যাপোলো অ্যাপারেলস—এই চারটি কথিত গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৯৪১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। সালমান এফ রহমান তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয়ে জনতা ব্যাংক পিএলসির লোকাল অফিস থেকে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।
দুদকের তথ্যমতে, প্রথম মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস, ঢাকার কথিত গ্রাহক বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেডকে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে এলসির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে ১২ কোটি ৩১ লাখ ৯২ হাজার ১১০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় সালমান এফ রহমান সংশ্লিষ্ট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন করে এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৮ মার্কিন ডলার, যা ২০২১–২২ অর্থবছরের গড় বিনিময় হারে প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
অপর একটি মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, পিংক মেকার লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করে এলসির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ৫১৩ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬৭৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৬১৪ টাকা আত্মসাৎ করে হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করা হয়।
চতুর্থ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসা পরিচালনায় অভিজ্ঞতাহীন পরিচালকদের দ্বারা পরিচালিত অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এলসির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১৯ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৬৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ নিজেদের মধ্যে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(এ) ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় এসব মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
আ.লীগ ভুল স্বীকার না করলে জনগণ ক্ষমা করবে না: শফিকুল আলম
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল: কেউ করছেন দোয়া, কারও চোখে পানি
৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের