রংপুর ব্যুরো: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন এপ্রিল মাসের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা ও উপজেলা কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, আজ থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের কমিটির যে ফরমেশন প্রক্রিয়া সেদিকে চলে যাব। এপ্রিল মাসের মধ্যে জেলা এবং উপজেলা কমিটিগুলো দেখতে পাবেন। তিনি বলেছেন শ্রদ্ধা ও সমতা থাকলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে। এই সম্পর্কের মধ্যে কেউ আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে, সেই চোখ রাঙানি বাংলাদাশের মানুষ আর মেনে নেবেন না ।
গতাকাল শুক্রবার দুপুরে রংপুর নগরীর কেরামতিয়া জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সারজিস আলম বলেন, প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। যারা নতুন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। যারা মনে করে তরুণরা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা আছে। এই নেতৃত্ব যেমন তরুণ নির্ভর হবে এবং নেতৃত্বে আমাদের অগ্রজরাও অবশ্যই থাকবেন। সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে তরুণদের সাহস ও উদ্যোম যেমন দরকার, তেমন অগ্রজদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা অনেক বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিগত এক যুগ ধরে রাজনীতি আর গণমানুষের রাজনীতি ছিল না। রাজনীতি ছিল টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনা এবং রাতের আঁধারে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওঢা। এখন আমরা যখন জনগণের রায় বাংলাদেশে নতুন করে নির্বাচনের আশা করছি তখন আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। কারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফেরত পাবে। জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আমরা সংসদে যেতে চাই। আমরা মাঠে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে ও বাড়িতে জনগণের কাছে যাব। আমরা দেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখি এবং যা করতে চাই, আমাদের যা প্রত্যাশা সেগুলো তুলে ধরতে জনগণের কাছে যাব। এতো ত্যাগ ও রক্তের পরে জনগণের চাওয়া কী সেগুলো শুনতে চাই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এনসিপির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, আমাদের যে রাজনৈতিক দল এনসিপি মাত্র এক মাস হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইলেকশনের কথা শুনতে পাচ্ছি। অন্তবর্রতী সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে বলা হচ্ছে। ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ চ্যালেঞ্জ দিতে আমরা অভ্যস্ত এবং প্রস্তুত রয়েছি। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া আমাদের লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। চোখের সামনে জুলাই-আগস্টে যে রক্তাক্ত নিথর দেহগুলো ছিল সেগুলোকে যদি আমরা সামনে রাখতে পারি তাহলে আমরা এই ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটা থেকে কখনো বিচ্যুত হবো না। আমরা যদি জনগণের জন্য কাজ করতে পারি তাহলে জনগণই তাদের রায় দিয়ে সংসদে নিয়ে যাবে।
সারজিস আলম বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, সমতা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে দেশ।’নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ জোরেসোরে শুরু হয়েছে বলেও জানান এনসিপির এই নেতা। সারজিস আলম বলেন, ‘সকল জেলা ও উপজেলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটিসহ ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে আমরা কাজ করছি। উত্তরাঞ্চলের প্রতি বাজেট বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে যত বাজেট হয়েছে সেগুলো ছিল অঞ্চলভিত্তিক। লবিং ভিত্তিক বাজেটে এক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। যে যার মতো করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লবিং করে বাজেট বরাদ্দ নিজের জায়গায় নিয়ে গেছে। তবে বর্তমান অন্তবর্রতীকালীন সরকার এই অঞ্চলের মানুষের যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু বরাদ্দ রাখবে- আমরা এ আশা করি। অন্তবর্তী সরকারের উপর আমরা সে আস্থা রাখতে চাই। বাংলাদেশের জন্য আমাদের যতটুকু কন্ট্রিবিউশন এবং উত্তরবঙ্গের মানুষ যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু এখন থেকে যেন আমরা পাই। সেটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আসাদুল্লাহ আল গালিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, সদস্য সচিব রহমত আলী প্রমুখ।
আরও পড়ুন
বেরোবিতে ঈদের দিন উপাচার্যের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবার প্রদান
রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগ মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল -অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার