নিউজ ডেস্ক :
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া আত্মঘাতী বলে মনে করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। শনিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় করোনাভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পরও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বিধিনিষেধ শিথিল এবং ২দিন পরই ১৯ তারিখ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। বিধিনিষেধ কেন ফলপ্রসু হয়নি তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ক্যাশ ট্রান্সফার করা সবচেয়ে জরুরি ছিল। সরকার কর্ণপাত করেনি। সে কারণে অপরিকল্পিত লকডাউন ফলপ্রসু হয়নি। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলোর ব্যর্থতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সিটি করপোরেশনগুলো এডিস মশা নিধনের বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা স্ট্যাবল রয়েছে। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর তাকে ভর্তি করা হয়েছিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত ১৯ জুন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। এর এক মাস পর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ১৯ জুলাই করোনাভাইরাসের টিকা নেন তিনি। সে সময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, মডার্নার টিকা নেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে টিকা সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চৌধুরী হাফিজ হাসান, অধ্যাপক মাসুদুল হাসান, অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক এবং সাবেক ইউএন কর্মকর্তা মাহমুদ উদ সামস চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের জন্য তাদের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।
আরও পড়ুন
নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, সতর্ক করল বিএনপি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত পরিবারের পাশে থাকবে বিএনপি : আমিনুল হক
ইমামের পাশে উপদেষ্টা আসিফের নামাজ আদায়, জানা গেল কারণ