নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলার সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্তে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কিত। তাই দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে বাংলাদেশে সরাসরি যোগাযোগ ও সংলাপ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কলকাতা ভিত্তিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, তুলা, সবজি এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়। বিপরীতে ভারত থেকে আসে প্রক্রিয়াজাত চামড়া, যা ব্যাগ তৈরি ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। কাউন্সিল অব লেদার এক্সপোর্টের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার আঞ্চলিক কমিটির সদস্য জিয়া নাফিস বলেন, “প্রতি বছর কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স এবং কসবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের মাধ্যমে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার চামড়া আমদানি করা হয়। ভিসা না থাকলে আমরা মান যাচাই করতে পারব না, ফলে ব্যবসায় ঝুঁকি থাকে।”
রপ্তানিকারকরা জানাচ্ছেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বেশি থাকে। বর্তমানে কলকাতা থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০ টন পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। তবে ভিসা স্থগিত থাকায় সরাসরি দেখা ও মান যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সাবেক আঞ্চলিক চেয়ারম্যান বিমল বেঙ্গানি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপের ওপর দাঁড়িয়ে। নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু দ্রুত ভিসা সমস্যা সমাধান হওয়া প্রয়োজন। ব্যবসায়ী, রোগী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা দুই দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য জরুরি।”
এ পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে ঢাকাগামী এয়ারলাইনগুলিও চিন্তিত। যাত্রী কমে গেলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হতে পারে, যা সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল: কেউ করছেন দোয়া, কারও চোখে পানি
৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের