Tuesday, December 23rd, 2025, 7:08 pm

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চোখের জলে ভাষিয়ে চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আলাউদ্দিন

নাটোর প্রতিনিধি:

চোখের জলে ভেজা এক প্রভাত। গ্রামের বাতাসও যেন আজ ভারী নাটোর পৌর এলাকা কাপুরিয়াপট্রি ও মীরপাড়ার  মানুষ আজ শোকাহত, নিঃশব্দে বিদায় জানিয়েছে একজন কিংবদন্তিকে। তিনি শেখ মোহাম্মাদ আলাউদ্দিন সোমবার ২১  ডিসেম্বর   রাত পৌনে ১১ দিকে মীরপাড়ার তার মেয়ের নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহী ও ইন্না ইলাহি রাজিউন। এদিন বাদ জোহর মীরপারা  জামে মসজিদ চত্তরে মরহুমের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের পক্ষে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তি যোদ্ধা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।

এরপর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আদনানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন ওই মসজিদের ইমাম। নামাজে জানাজায় বীর মুক্তি যোদ্ধ সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।

মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। রেখে গেছেন ১ পুত্র, ২ কন্যা, এবং অগণিত গুণগ্রাহী। বার্ধক্যজনিত কারণ ছারাও চারবার স্ট্রোক করার পর, প্যারালাইসিস হয়ে দীর্ঘ ৭ বছর  ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে তাকে শহরের গাড়ীখানা কবর স্থানে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সুত্র মতে জানা যায়, শেখ আলাউদ্দিন বাবা শেখ আব্দুল হাই মিয়া মাতা রহিমা বেগম । তারা আট ভাই- বোন। তার স্ত্রী রুমি বেগম (রত্না) তার চার সন্তান তার বড় ছেলে ও স্ত্রী  আগেই মারা গেছে । দীর্ঘ ৭ বছর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন তিনি চোখে ঠিকমতো দেখেন না । তার বাম হাত বাম পা পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় কোন চলাফেরা করতে পারে না। তার নিজস্ব কোন বাড়িঘর না থাকায় তার বড় মেয়ে  রুখছানা পারভীন (তদ্রার)  মীরপারা বাসায় থাকেন ।

তিনি নাটোরকোড বিল্ডিং এ পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশি পতাকা নাটোর কোট বিল্ডিং এ উত্তোলন করে ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই মানুষ, যিনি স্বাধীনতার ডাকে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। ভয়ভীতিকে পেছনে ফেলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন যুদ্ধের ময়দানে—একটি স্বাধীন পতাকার জন্য। তাঁর সাহস, তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে লেখা থাকবে গর্বের অক্ষরে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের ছোট ভাই বীর প্রতীক সোলায়মান বর্তমানও খুব অসুস্থ পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছেন ।