ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোর জন্য আরও আটটি সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, যেসব দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে, তারা নতুন বিধান অনুযায়ী নিজ নিজ দলীয় প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেবে।
সমঝোতার আওতায় বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-৪ আসনে একই দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রার্থী হবেন।
এর আগে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটি পুরোপুরি মাঠে সক্রিয় থাকতে পারেনি।
দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন নির্বাচন বাইরে থাকার কারণে এবার বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। পাশাপাশি গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নির্যাতন–নিপীড়নের শিকার নেতাদের মধ্যেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। এ বাস্তবতায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
যেসব আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হবে, সেখানে বিএনপি নিজ দল থেকে কোনো প্রার্থী দেবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শরিক দলগুলোও কেবল নির্ধারিত আসনেই প্রার্থী দেবে—অন্য কোনো আসনে নয়। এই শর্তেই আসন সমঝোতায় আগ্রহী বিএনপি। তবে শরিক নেতারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে সেটিকে দলটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে তার প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
এ পর্যন্ত দুই দফায় বিএনপি ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে। বাকি ২৮টি আসন শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে মঙ্গলবার জমিয়তকে চারটি আসন দেওয়া হয়েছে।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫, দলের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি নীলফামারী-১, জুনায়েদ আল হাবিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং মনির হোসেন কাসেমী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী হবেন।
এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না: ইসি
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ওবায়দুল কাদের
ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৪৯ শতাংশ