অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এর আগে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমান।
হাসপাতালে প্রবেশের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. জাহিদ হোসেনসহ দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমান পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে পরে গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে যাবেন তারেক রহমান। সেখানেই তিনি পরিবারসহ অবস্থান করবেন। বাড়িটির পাশেই অবস্থিত ‘ফিরোজা’, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার আবাসস্থল।
এর আগে গণসংবর্ধনা মঞ্চে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে যেমন এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং ২০২৪ সালে যেমন সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে, ঠিক সেভাবেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজ দেশের মানুষ তাদের কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। তিনি বলেন, এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই বসবাস করে। আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।
এর আগে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বাসে ওঠার সময় তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে একমুঠো মাটি তুলে নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমানকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পরে বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে তিনি পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে যান।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ঢাবির আওয়ামীপন্থি ৪ শিক্ষক ‘স্থায়ী বহিষ্কার’ হচ্ছেন
মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুনানি চলছে
মিরপুর রোডে তিতাসের প্রধান ভালভ ফেটে গ্যাস সংকট, ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা