নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সরকার চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো। মিয়া সেপ্পো বলেন, কোনো দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না জাতিসংঘ। তবে কোনো দেশের সরকার সহায়তা চাইলে তা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনে সহযোগিতা চাইলে তা দেবে জাতিসংঘ। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। মিয়ানমার ও আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে অপর এক প্রশ্নে মিয়া সেপ্পো বলেন, একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে মিয়ানমার ও আফগানিস্তান। জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে দেশ দুটির প্রতিনিধিত্ব কে করবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ সময় বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারকে আমরা স্বাগত জানাই। এর মধ্য দিয়ে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারবে। অন্যদিকে মিয়া সেপ্পো বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। মিয়া সেপ্পো বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক শরণার্থী নীতি সমর্থন করে। যদিও অনেক দেশের স্থানীয় নীতির সঙ্গে বৈশ্বিক নীতির পার্থক্য আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে রাখা বাংলাদেশের দায়িত্ব। এছাড়াও ভাসানচরে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ার সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। এটা দ্রুত স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক নয়, রাজনৈতিকও বটে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা একমত হতে না পারায় এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান হচ্ছে না। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব প্রেসিডেন্ট পান্থ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনুদ্দিন।

আরও পড়ুন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে: প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ
এস আলমের আরও ৪৩১ শতাংশ জমি স্থাপনাসহ জব্দের আদেশ
গণভোট নয়, শুধু সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন