May 1, 2025

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, April 30th, 2025, 5:03 pm

এপ্রিলে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা হলো না কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের মধ্যে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল বিএনপি। তবে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না হওয়ায় তার দেশে ফেরা কিছুটা পিছিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঠিক হলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। এ কর্মকর্তা বলেন, বিএনপির অনুরোধের প্রেক্ষিতে এপ্রিলের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা হতে কিছুটা সময় লাগছে, সেজন্য নির্দিষ্ট সময়ের অনুরোধ রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথাটাও চিন্তা করতে হবে। আশা করা হচ্ছে, তিনি শিগগরিই দেশে ফিরবেন।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, তাকে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানও দেশে ফিরছেন। খালেদা জিয়াসহ ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে দেশে ফেরানোর তালিকা সরকারের কাছে দিয়েছে বিএনপি।

খালেদা জিয়াকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে গত ১৭ এপ্রিল কাতারের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে চিঠি লিখেছিলেন।

চিঠিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে ‘আশঙ্কামুক্ত’ নয়। তথাপি তিনি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফেরাতে পরামর্শ দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিগত সরকার তাকে বিশেষ বিবেচনায় কারামুক্তি দেয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করেন আদালত।

গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর লন্ডন ক্লিনিক থেকে গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে তারেক রহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অর্ধযুগের বেশি সময় পর এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবন্দি অবস্থায় চারটি ঈদ কেটেছে কারাগারে ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

বর্তমানে তারেক রহমানের বাসায় চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ শারীরিক নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।