রাজধানীর গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের মিছিলে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত পুলিশের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা শিউলি সেলিম প্রধানের জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আজ শুনানির জন্য সেলিম প্রধানকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান।
আসামিকে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার সংশ্লিষ্ট তথ্য, আসামিদের জবানবন্দি ও স্থানীয় তদন্তে জানা গেছে—সেলিম প্রধান নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের অর্থ যোগানদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে সক্রিয়ভাবে দেশবিরোধী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তিনি সংগঠনের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেলিম প্রধান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত সদস্যদের আর্থিক সহায়তা দিতেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তিনি সারা দেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে প্রয়োজনে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২২ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে গুলশান-১ এলাকার ১৩৬ নম্বর রোডে জব্বার টাওয়ারের সামনে সেলিম প্রধানসহ ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশে মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর গুলশান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে গুলশানের বারিধারার নেক্সাস ক্যাফে প্লেস রেস্তোরাঁ থেকে সেলিম প্রধানসহ নয়জনকে আটক করা হয়। পুলিশ সেখান থেকে ৬ দশমিক ৭ কেজি সীসা উদ্ধার করার দাবি জানায়। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ঢাবির আওয়ামীপন্থি ৪ শিক্ষক ‘স্থায়ী বহিষ্কার’ হচ্ছেন
মিরপুর রোডে তিতাসের প্রধান ভালভ ফেটে গ্যাস সংকট, ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা
২৫ জানুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের