February 26, 2026
Wednesday, November 5th, 2025, 5:57 pm

৫ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অকার্যকর ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো—

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি

এক্সিম ব্যাংক পিএলসি

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পৃথক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে তারা পরিচালিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি তলব করেছেন। বৈঠকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তগুলো জানানো হবে। ইতিমধ্যেই ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবদের এ সংক্রান্ত বিষয় জানানো হয়েছে। বিকেল ৪টায় গভর্নর সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানাবেন।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। বহুবার সহায়তা দেওয়ার পরও তাদের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং শেয়ারবাজারে তাদের মূল্য মারাত্মকভাবে পড়ে গেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য (নেট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

এনএনবাংলা/