Monday, November 10th, 2025, 8:05 pm

কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজ্জাদ আলম সাইনুল গ্রেপ্তার

নীলফামারী প্রতিনিধি:

‎নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদ আলম সাইনুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের দুই-তিন দিন পর নীলফামারী শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসকন সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশব্যাপী আয়োজিত ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে নীলফামারীতেও মিছিলটি হয়, যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

‎অভিযোগ রয়েছে, সাজ্জাদ আলম সাইনুল নিজ উদ্যোগে কুন্দপুকুর ও আশপাশের এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ভ্যান ও থ্রি-হুইলার অটোরিকশাযোগে শহরে পাঠিয়ে ওই মিছিলে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন। তার নির্দেশে কয়েক শত মানুষ ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

‎ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের গঠনের পরপরই এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সক্রিয়তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।‎

‎সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে ইসকন সংগঠনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।‎

‎উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জহুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাজ্জাদ আলম সাইনুল আসামি হিসেবে চার্জশিটভুক্ত। মামলাটি (নং: এসসি/১২১/১২) বর্তমানে নীলফামারী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ রায় পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া নীলফামারী থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা চলমান, যার বাদী মশিউর রহমান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাজ্জাদ আলম সাইনুলকে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছেন কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপির (আওয়ামী পরিবারের) পদধারী আব্দুল জলিল এবং পদবিহীন জসিদুল জসি, সাইনুলের ছোট ভগ্নিপত আওয়ামী পরিবারের জামাতা।  সাইনুল ও জসিসহ মোট ২২ জন একত্রে সাংবাদিক পিতা মোঃ জহুরুল ইসলামকে কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বেরিগেট দেয় পরে নীলফামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৭-৮ জন গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এছাড়া আব্দুল গনি নামের আরেক ব্যক্তি, যিনি অতীতে একাধিক দল পরিবর্তন করে বর্তমানে বিএনপিতে আশ্রয় নিয়েছেন, তার সঙ্গেও সাইনুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

‎এদের সঙ্গে আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সম্প্রতি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।