৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মিলিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৬৫ জন।
নরসিংদীতেই বাবা-ছেলেসহ পাঁচজনের করুণ মৃত্যু ঘটেছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদী ও ঘোড়াশালের মধ্যবর্তী এলাকায় ভূকম্পনের উৎপত্তি হয়।
নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন (৩৭) ও তার ছেলে ওমর ফারুক (৮) এবং আরেকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। পরে দেলোয়ার ও তার ছেলে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দেলোয়ারের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তরপাড়ায় হলেও পরিবারটি নরসিংদীর গাবতলীতে ভাড়া থাকতেন।
এছাড়া ভূমিকম্পের সময় পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে মারা যান কাজম আলী ভূঁইয়া (৭০)। ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০) এবং শিবপুর উপজেলার আজকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪২) গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। ফুরকানকে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্পে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ভবন কেঁপে ওঠে। লোকজন ঘর ছেড়ে রাস্তায় ছোটাছুটি করেন। শহরের বহু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতাল জানায়— কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সদর হাসপাতালে ভর্তি ৫৭ জন এবং জেলা হাসপাতালে ভর্তি ১৩ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাসপিয়া (১৮), শামীম (২০), রাকিব (২৪), আতিকুর (৭), ওমর (১০), সাইফুল (৩৬), হালিমা (৪৫), রফিক (৩ মাস), মিথিলা (২০), তামিম (৬), নাসরিন (৩৭), মেহেরউন (২০), সাথী (২২), সিনিয়র নাগরিকসহ আরও অনেকে।
পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাব-স্টেশনে ভূমিকম্পের পর অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফলে কিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকার বেশ কিছু ভবনে ফাটল, কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরাতন রেল ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, জেলার বিভিন্ন জায়গায় আহতের খবর পাওয়া গেছে। তিনি একজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে সিভিল সার্জন ড. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম নরসিংদীতে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় দেয়াল ও স্থাপনা ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন— রাফিউল ইসলাম (২০); সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, আবদুর রহিম (৪৮) ও তার ছেলে আব্দুল আজিজ রিমন (১২) এবং রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকায় দেয়াল ধসে ফাতেমা (১০ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির মা কুলসুম বেগমসহ দুজন আহত হন।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছি: আসিফ নজরুল
ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে, নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ালো
যুক্তরাষ্ট্রের ‘বি১ ভিসা বন্ড’ শর্তাবলি পুনর্বিবেচনার আহ্বান খলিলুর রহমানের