থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ১২১ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে যখন মুকুট মাথায় তুললেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ, তখন বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে একটি প্রশ্ন— কে এই সাহসী তরুণী? আলো, উচ্ছ্বাস আর গ্ল্যামারের মঞ্চে তাঁর জয় ছিল শুধু সৌন্দর্যের নয়, ছিল সংগ্রাম, মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের।
শৈশবেই ধাক্কা: ডিসলেক্সিয়া-এডিএইচডি নিয়ে বড় হওয়া
২০০০ সালের ১৯ মে মেক্সিকোর তাবাস্কোর ভিলাহেরমোসায় জন্ম ফাতিমার। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রাণবন্ত, প্রকৃতিপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা। কিন্তু মাত্র ৬ বছর বয়সে তাঁর ডিসলেক্সিয়া ও এডিএইচডি ধরা পড়ে, যা তাঁর শিক্ষাজীবনকে করে তোলে কঠিন। তবুও হাল ছাড়েননি। মনোযোগ ধরে রাখা, লক্ষ্য স্থির করা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস—এই তিন শক্তিতে ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধতাকে পরিণত করেন শক্তিতে। এ লড়াইই গড়ে তোলে আজকের ফাতিমা বশকে।

মাত্র ১৭ বছরেই প্রথম মুকুট
ষোল বছর বয়সে ফাতিমা উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে পাড়ি জমান। সোখানে এক বছরের পড়াশোনা শেষ করে মেক্সিকোয় ফেরেন। ফাতিমার শৈশবের স্বপ্ন ছিল মেক্সিকোর ফ্লোর তাবাস্কো সুন্দরী প্রতিযোগিতার মুকুট জয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেই স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সে ‘ফ্লোর তাবাস্কো’ পুরস্কার জিতে নেন।
এরপর পড়াশোনার জন্য ফাতিমা বেছে নিয়েছিলেন ফ্যাশনকে। ফ্লোর তাবাস্কো জয়ের পর মেক্সিকো সিটির ইউনিভেরসিডাড ইবেরোমেরিকানাতে ফ্যাশন এবং পোশাক ডিজাইনে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর পড়তে যান ইতালি। দেশটির মিলানে নুওভা আক্কাদেমিয়া ডি বেল্লে আরতি-তে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করেন তিনি।

মানবিকতার আলাদা পরিচয়
ফাতিমা শুধু র্যাম্প বা সৌন্দর্যের নাম নয়—তিনি একজন মানবিক উদ্যোগের কর্মী। গত ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের জন্য কাজ করছেন তিনি। প্রতি বছর তাবাস্কোর অনকোলজি হাসপাতালে ক্রিসমাসে খেলনা বিতরণ করেন।
এ ছাড়া ফাতিমার সামাজিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রুটা মোনার্কা’ এবং ‘কোরাজোন মিগ্রান্তে’। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে তিনি পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে মানবিক সহায়তার কাজ করেছেন। অভিবাসীদেরও সমর্থন করেন ফাতিমা। পাশাপাশি সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য ও আশার বার্তা প্রচারের জন্য কাজ করেন। সৌন্দর্য নয়, মানবিকতা—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

লাইভ ইভেন্টে অপমান, তবু দৃঢ় প্রতিরোধ
মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর প্রিপ্যাজেন্ট অনুষ্ঠানে ঘটে যায় আলোচিত একটি ঘটনা। প্রোমোশনাল কনটেন্ট সময়মতো পোস্ট না করায় মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের পরিচালক নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিল লাইভে ফাতিমাকে বলেন— “ডাম্বহেড।” কোনো প্রতিযোগীর জন্য এ এক অমানবিক কটাক্ষ। কিন্তু ফাতিমা সরাসরি বলেন— “একজন নারী হিসেবে আপনি আমাকে যথাযথ সম্মান দিচ্ছেন না।”
নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়ার পর বাকি প্রতিযোগীরাও প্রতিবাদে হল ত্যাগ করেন। ফেসবুক লাইভে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যগুলো। বিশ্বব্যাপী সমর্থন পান ফাতিমা। শেষ পর্যন্ত মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ নাওয়াতকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। মুকুট পাওয়ার আগেই যেন তিনি জিতে নেন নারীর মর্যাদার লড়াই।

বিশ্বজয়ের পর ফাতিমার শক্ত বার্তা
মুকুট জয়ের পর ফাতিমা বলেন— “একুশ শতকের নারী কেউই হাতের পুতুল হয়ে থাকতে পারে না। আমি এসেছি বিশ্বের সব নারীর প্রতিনিধিত্ব করতে।”
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
পরাণ-দামালের পর আবারও মিম-রাজ জুটি
তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলায় বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে ক্রিকেটারদের ক্ষোভ