নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরে দীর্ঘ্য চল্লিশ বছর ধরে ভাত না খেয়ে বেঁচে আছেন সত্তর বছর বয়সী মাহবুল। পাতলা দুধ,চা-বিস্কিট, আর টকদই, তার খাবার। ক্ষেত, খামার, হাট বাজার ও সংসারের কাজ কর্মে কোন কিছুতেই তার সমস্য হয় না। বেঁচে আছেন আর দশজনের মতই।
ভাত আমাদের দেশের প্রধান খাবার। তাই বলা হয় মাছে ভাতে বাঙ্গালী । অনেকে প্রায় তিন বেলাই ভাত খেয়ে থাকেন। কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়া ও ডায়াবেটিস এর সমস্যার কারণে অনেক সময় ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমাতে বলেন, চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। একজন সুস্থ ব্যক্তি ভাতের পরিবর্তে রুটি, মুড়ি, খই, সাবু, পাস্তা, চিড়া, ওটস, মিষ্টি আলু বা অন্যান্য আলুসহ অনেক ধরনের খাবার খেতে পারেন। তবে শুধু পাতলা দুধ,চা-বিস্কিট, আর টকদই খেয়ে খেয়ে বেঁচে আছেন মাহবুল।
জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের গুনারী গ্রাম। শহরের বড় হরিশপুর বাইপাস চত্তর থেকে মাত্র কয়েক কিঃমিঃ অদুরে ওই গ্রামেই স্ত্রী, চার ছেলে মেয়ে নিয়ে তার বসবাস। ভাল নাম আব্দুর রাজ্জাক তাকে গ্রামের সবাই মাহবুল নামে বেশি চিনে। তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে মাহবুর সবার বড়। বাবা (অবঃ) প্রাপ্ত স্কুল মাষ্টার হাজ্বী মরহুম খলিলুর রহমান। ১৯৭৭ সালে মেট্রিক পাশ করার পরে সে নাটোর এনএস সরকারি কলেজে ভর্তি হয়। কলেজে তিন মাস পড়া লেখা করার পর হঠাৎ মাহবুলের পেট ব্যাথা শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে শহরের নাহার ক্লিনিকে পেটের অপারেশন করা হয়। এতে সুস্থ্য না হওয়ায় বাড়িতে শুয়ে বসে থাকে এরই এক পর্যায়ে বাবা মায়ের সাথে রাগারাগি করে সে ভারতের দিল্লীতে চলে যায়। সেখানে তিন বছর চিকিৎসার অর্থ যোগাতে এক দোকান কর্মচারী হিসাবে থাকতে শুরু করে। পরে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফেরার দুই বছর পর বাবা মায়ের পছন্দ মত বিয়ে করেন তিনি । তিন মাস বাবা মায়ের সাথে এক সংসারে থাকার পর নতুন বউকে নিয়ে আলাদা সংসার শুরু করে মাহবুল। ওই ডাক্তার স্বাভাবিক খাবার ক্ষেতে বললেও ভারি খাবার খেয়ে অসুস্থ্য হওয়ায় এবার ভাত বিহীন জীবন শুরু করে মাহবুর।
এদিকে সংসার জীবনে তাদের ঘড়ে এক মেয়ে ও তিন ছেলে জন্ম হয়। মেয়েটা বিয়ে দেওয়ার পর স্বামীর স্বামীর সংসারে । অন্যদিকে বড় ছেলে পড়ালেখা করে রাজশাহীতে একটি কোম্পানীতে চাকুরী করছে আর অন্য দুই ছেলে একটা স্থানীয় প্রাথমিকে আরেকটা দিয়াপতিয়া এমেেক কলেজে পড়া-লেখা করছে।
এবিষয়ে মাহবুল বলেন, প্রতিদিন আমার কায়িক শ্রম হয়, যদি কায়িক শ্রম না করি সারাদিন শুয়ে-বসে থাকি, তাহলে ওজন বাড়তে পারে, তাতে কোন সমস্য হতে পারে তাই নিজের কাজ নিজেই করি এতে কোন সমস্যা হয় না। দিল্লী থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসার পর, সব খাবার খেতে বলে ছিলো কিন্তু আমার বেলা তা হয়নি। ভাত-মাছ ভারী কোন খাবার শরীরে মানায় না, তাই পাতলা দুধ,চা-বিস্কিট, আর টকদই খেয়ে বেঁচে আছি। এতে আমার কোন সমস্যা হয় না।
প্রতিবেশী ওমর আলী বিশ্বাস বলেন, মাহবুল আমার বাল্য বন্ধু এক সাথেই পরেছি, তার সমস্যার কারণে চল্লিশ-বিয়াল্লিশ বছর ধরে খাত খায় না, দুধ,চা, ডায়া সল্ট বিস্কিট খেয়ে বেঁচে আছে। হাট-বাজার, কাজ-কর্ম সবই করে এমনকি দম্পত্য জীবনে তার কোন সমস্যা নাই।
এব্যাপারে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সিএস ডাঃ মোঃ মোত্তাদীর আরিফীন বলেন, আমরা জান্তে পেরেছি একজন লোক ভাত না খেয়ে বেচেঁ আছে। অনেকের দেখা যায়, সবসময় ভাত খেতে ভালো লাগে না। তারা অন্য কিছু খেতে চান। ভাতের পরিবর্তে একজন ব্যক্তি কী খাবেন সেটা নির্ভর করবে তার শরীরের অবস্থার ওপর। সে নিয়মিত দুধ-দই খায়, এটা একটা আইডিয়াল খাবার। এটি খাবার ফলে তার শারীরিক কোন বিপর্যয় ঘটছে না, এজন্য তিনি সুস্থ্য আছে।
যেখানে সাধারণ মানুষ একদিন ভাত না খেলে অস্বাভাবিক হয়ে যান, সেখানে মাহবুলের জীবন ভাক বিহীন স্থানীয়দের কাছে এক বিশ্বয়।

আরও পড়ুন
ভাঙ্গুড়ার রুহুল বিলে হাজারো সৌখিন মৎস্য শিকারীর বাউত উৎসব
ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধের কারখানা আবিস্কার:বিপুল পরিমাণ উপকরণ জব্দ
শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা