November 29, 2025

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, November 29th, 2025, 4:27 pm

ভাঙ্গুড়ার রুহুল বিলে হাজারো সৌখিন মৎস্য শিকারীর বাউত উৎসব

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা :

কারও হাতে পলো, কারও হাতে খেয়া জাল ও বাদাইসহ মাছ ধরার নানা উপকরণ। এরপর দল বেঁধে মনের আনন্দে বিলে নেমে মাছ ধরেন  সৌখিন শিকারীরা। কেউ পাচ্ছেন রুই, কাতল, কেউবা বোয়াল, শোল। আবার অনেকে ফিরছেন খালি হাতে। শনিবার পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রুহুল বিলে এভাবেই হাজারো সৌখিন মৎস শিকারীরা যোগদেন বাউত উৎসব। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এ উৎসবে অংশ নেন নানা বয়সী মানুষ।

শনিবার সকালে পাবনা-ফরিদপুর আঞ্চলিক সড়কের পাটুলী পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো শত শত যানবাহন। এসব যানবাহনে করেই নাটোর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন শত শত মৎস্য শিকারি।

তারা মাছ ধরার নানা উপকরণ নিয়ে রুহুল বিল  ছুটে যান। বিলে নেমে লোকজ রীতিতে মনের আনন্দে চলে মাছ শিকার। আবার কেউ কেউ মাছ ধরতে পেরে আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে ঠান্ডা উপেক্ষা করেন।

নাটোর থেকে বাউত উৎসবে আসা মৎস্য শিকারি আলমাস আলী বলেন, প্রতিবছরই এই বিলে বাউত উৎসব হয়। এটা আমাদের এলাকার সবাই জানে, তাই শখ করে মাছ ধরতে এসেছি। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার কোম্পানী কমান্ডার শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলের এই উৎসব পাবনার ঐতিহ্য । উৎসবে ধনী-গরিবে ভেদাভেদ থাকে না, মিলেমিশে মেতে ওঠেন সবাই। কিন্তু দিন দিন বিলে মাছ ও পানি কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ উৎসব আর থাকবে না।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত ভাঙ্গুড়া উপজেলার অতীত ঐতিহ্য এই বাউত উৎসব। প্রতি বছর রুহুল বিলে মাছ ধরার উৎসবে যোগ দেয় হাজারো মানুষ। দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে খাল খনন, মাছের পোনা অবমুক্তসহ নানা উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।।