খুলনা প্রতিনিধি:
অবশেষে খুলনা ওয়াসার সেই আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলামকে খুলনা ওয়াসার ফেস-২ প্রকল্পের পিডি হিসেবে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করায় শুরুতেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, খুলনা ওয়াসার ফেস-২ জন্য ২২৫৯৮ (দুই হাজার পাঁচশত আটানব্বই কোটি) টাকার প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টম্বর। যা গত ৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার সেটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সাবেক এমডি আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ-এর মেয়াদ শেষ হলে তিনি চলে যান।
এরপর পর্যায়েক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় পচিালক তৈয়েবুর রহমান, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হুসাইন শওকত ও মঞ্জরুল আলম খুলনা ওয়াসার এমডি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।
গত ৯ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ কামরুজ্জামানকে খুলনা ওয়াসার এমডি হিসেবে পদায়ন করা হয়। প্রায় এক মাস পর গত ৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার থেকে এমডি’র ছাড়পত্র হয়। এ সময় এমডিকে দ্রুত কাজে যোগদানে বাধা দেয় একটি চক্র। মন্ত্রণালয়ে তার ফাইল আটকে থাকে। বর্তমান এমডি গত ১০ ডিসেম্বর যোগাদান করেন। ওই দিন তিনি যোগদান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সেরে অফিস ত্যাগ করেন। পরের দিন ১১ ডিসেম্বর অফিসে আসার পরপরই তার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে প্রকল্প পরিচালকের জন্য একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
তালিকায় ৪ জনের নাম পাঠানো হয়। তারা হলেন, ১) খান সেলিম আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। যিনি বর্তমানে প্রকল্প পরিচালক, খুলনা সুয়ারেজ সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট। প্রকল্প কাজ ৫০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে সবেমাত্র।
২) মোঃ কামাল হোসেন, পিইঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী। যিনি খুলনা ওয়াসার ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প ফেস-২ এর ফোকাল পার্সন হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি গত তিন বছর ধরে ফিজিবিলিটি স্টাডি থেকে অদ্যবধি এই প্রজেক্টে সংশ্লিষ্ট আছেন।
৩) মো: আরমান সিদ্দিকী, নির্বাহী প্রকৌশলী, খুলনা সুয়ারেজ সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট।
৪) মো: রেজাউল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি অপারেশনের ও মেইনটেনেন্স’র কাজ করে থাকেন। কখনোই বৃহৎ কোন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেস টু প্রকল্পের কোন কাজের সাথেই সংশ্লিষ্ট নয়। তারপরও তাকে পিডি হিসেবে নিয়োগ দানে মোটা অঙ্কেওর লেন-দেন হয়েছে বলে চাউর হয়েছে। কেননা যেখানে পদায়নকৃত এমডিকে কর্মস্থলে যোগ দিতে ফাইল নড়তে সময় লেগেছে এক মাস। সেখানে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে কোন জাদুর স্পর্শে ফাইল খুলনা থেকে ঢাকার মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা হয়ে সেটি স্বাক্ষর হলো সেটি প্রশ্ন সবার কাছে।
সূত্রটি জানায়, খুলনা ওয়াসার ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত বোর্ড মেম্বর ইব্রাহিম খলিল তার প্রভাব খাটিয়ে বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং শেখ হাসিনার পরিবারের সমন্বয়ক মো:রেজাউল ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতেই মন্ত্রণালয়ে দৌড়-ঝাপ করেন। যার সর্বশেষ পরিসমাপ্তি ঘটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মাধ্যমে। গত ১১ ডিসেম্বর নুসরাত তাবাসসুমকে আনা হয় খুলনা ওয়াসায় তদবিরের জন্য। নতুন এমডিকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে তালিকা পাঠাতে বাধ্য করেন। এভাবেই খুলনা শেখ বাড়ির বিশ^স্ত ব্যক্তি ও বিগত দিনে আইইবি নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে নির্বাচন করা ব্যক্তিকে পুনর্বাসন সম্পন্ন হলো।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র ও উপ-সচিব ইবাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে জানা যায়, বিধি অনুযায়ী এই প্রকল্পের জন্য ৪র্থ গ্রেডের প্রকৌশলী হতে হবে। কিন্তু খুলনা ওয়াসাতে ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা না থাকায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের প্রকৌশলীকে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তবে তদবির কারকরা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এই রুটিন দায়িত্বই হবে মূল দায়িত্ব। এখানে অন্য কাউকে পেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে না। ফলে শুরুতেই একজন ফ্যাসিস্ট দোসরকে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন
কিশোরগঞ্জে সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন
উত্তরে কুয়াশার দাপটে বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
তিন দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন