Friday, December 26th, 2025, 8:26 pm

কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের সামনে আবারও বিক্ষোভ, নেতৃত্বে শুভেন্দু অধিকারী

 

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের সামনে আবারও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহে দীপু দাশ নামে এক হিন্দু যুবক হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপ-দূতাবাস ও আশপাশের এলাকা কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।

এদিন কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে গেরুয়া কাপড় পরা সাধু-সন্তদের নিয়ে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হলে বেহালা বাগান মোড়ে কলকাতা পুলিশ সেটি আটকে দেয়। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও আয়োজকরা।

বিক্ষোভের পর শুভেন্দু অধিকারীসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলটি বাইরে বেরিয়ে আসে। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, সাধু-সন্ত সমাজ এবং বিজেপির এমপি ও বিধায়করা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে তাদের আপত্তি, প্রতিবাদ ও দাবি ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

শুভেন্দু অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে পুলিশ হিন্দুদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেছে। তার দাবি, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কারও মাথা ফেটেছে, কারও নাক ভেঙেছে, এমনকি সাধুদেরও মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে আগে ৭ জন নারী জামিন পেয়েছেন এবং শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাকি ১২ জনকে আদালতে তোলা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ডেপুটি হাইকমিশনারকে জানান—দেখা না হলে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি করা হবে। পরে সরকারের অনুমতি নিয়ে ডেপুটি হাইকমিশনার তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দীপু চন্দ্র দাশ হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেওয়া হবে না। ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বলা হয়, নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে।

শেষে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কপিলমুনির আশ্রমে অনুষ্ঠিত গঙ্গাসাগর মেলায় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত সাধু-সন্তরা আসেন। প্রয়োজনে পাঁচ লাখ সাধু নিয়ে আবারও বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের সামনে আন্দোলনে নামা হবে।

এনএনবাংলা/