Monday, December 29th, 2025, 8:17 pm

ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের কেউ নির্বাচনে দাঁড়াবেন না : আবদুল্লাহ আল জাবের

 

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মতো যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের কোনো সদস্য ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সহানুভূতির ওপর ভর করে ইনকিলাব মঞ্চ নির্বাচনে যেতে চায় না এবং ভবিষ্যতেও কখনো ‘সিমপ্যাথির রাজনীতি’ করবে না।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবরোধ কর্মসূচি থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে দুপুর সোয়া ২টা থেকে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে ইনকিলাব মঞ্চ। গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই তারা শাহবাগে অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের কাউকে নির্বাচনে দাঁড় করানোর জন্য অনেকেই অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী প্ল্যাটফর্ম। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী ছিলেন না, বরং তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। সে সময় তারা কয়েকজন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চ কখনো ক্ষমতার কাছে নিজেকে বর্গা দেবে না কিংবা ক্ষমতার মুখাপেক্ষী হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি ক্ষমতার রাজনীতিতে আসেননি; তিনি এসেছিলেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশে রাজনীতির ধরন কেমন হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করতে। ইনকিলাব মঞ্চও আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি—সবার নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতে পারে। তবে জনগণ চায়, হাদি হত্যার বিচারে তারা যেন সোচ্চার ভূমিকা রাখে। বিচার নিয়ে যদি তারা নীরব থাকে, তবে আগামী নির্বাচনে জনগণই তাদের জবাব দেবে।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, যারা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শহীদ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করতে চায়, তারা সফল হবে না। জনগণ আবেগে নয়, অতীত ও বর্তমান—দুইয়ের হিসাব মিলিয়েই ভোট দেবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা হত্যাকারীদের জামিন করিয়েছে কিংবা টক শোতে গিয়ে শহীদ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে অবমাননা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি। জানাজায় অংশ নেওয়া হবে, কিন্তু বহিষ্কার করা হবে না—এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কবর জিয়ারত করা হবে, অথচ দায় স্বীকার করা হবে না—এটাও হতে পারে না।

উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকায় এখন তীব্র শীত চলছে। বর্তমান কোনো উপদেষ্টাই এখানে এসে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন না। তার ভাষায়, রাষ্ট্র যেন কম্বলের নিচে ঘুমিয়ে আছে, আর জনগণই রাষ্ট্রের পাহারাদার হয়ে শাহবাগে দাঁড়িয়ে আছে। ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ তাদের নিরাপত্তা দেবে। তবে যদি কোনোভাবে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির পর তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে জনভোগান্তির অপপ্রচার চলছে বলে অভিযোগ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, শাহবাগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও বিকল্প সড়ক রয়েছে। এখানে যারা অবস্থান করছেন, তারা ভাড়া করা নন। এই শীতের মধ্যে কেউ টাকার জন্য বসে নেই; তারা খুনিদের বিচারের দাবিতেই অবস্থান করছেন। যত অপপ্রচারই চালানো হোক না কেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

আইন উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সম্প্রতি জুলাইয়ের মামলার আসামিদের জামিন দেওয়া হয়েছে। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি দেশের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এনএনবাংলা/