হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপের মুখে চলতি মৌসুমের আইপিএলে আর খেলতে পারছেন না বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে দলে নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের মুসলিম রাজনীতিক ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, মুস্তাফিজকে ‘ফেরত পাঠানো হয়েছে’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ তার ভাষায়, দিল্লিতে মোদির ‘বোন’ সেজে বসে থাকা শেখ হাসিনাকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত।
রোববার (৪ জানুয়ারি) এক জনসভায় ওয়াইসি বলেন, হিন্দুত্ববাদীরা মহারাষ্ট্র ও মুম্বাইয়ের মানুষকে বোঝাতে চাইছে—‘দেখো, আমরা এক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছি।’ এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, দিল্লিতে বসে থাকা সেই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠাতে চান কি না—তাহলে স্লোগান তুলুন, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।’
তিনি আরও বলেন, “মোদিজি, এই আওয়াজ শুনুন। তাকে ধরুন এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।”
জালগাঁওয়ে এক মুসলিম যুবককে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ওয়াইসি প্রশ্ন করেন, ওই ঘটনার পর কেন মোদি কিংবা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। তার মতে, জালগাঁওয়ের নিহত সন্তানটির জন্য শাসকদলের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
ওয়াইসি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনেতে মোহসিন শেখ হত্যাকাণ্ডের বিচার ছিল প্রথম বড় দাবিগুলোর একটি। একইভাবে জালগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে তার নিজের পরিচিতরাই পিটিয়ে হত্যা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে কোনো হিন্দু নিহত হলে আমরা তার নিন্দা করি—এ কথা উল্লেখ করে ওয়াইসি বলেন, মানুষ হত্যাকারী যেই হোক, সে জালিম। জালগাঁওয়ে যারা সুলেমান পাঠানকে হত্যা করেছে, তাদেরও একইভাবে নিন্দা জানানো উচিত। তার ভাষায়, বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোথাও মানুষের জীবনের মূল্য কম নয়; একজন হিন্দু ও একজন মুসলমানের জীবনের গুরুত্ব সমান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতারা টিভিতে দাবি করছেন যে, একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়াই নাকি তাদের বড় সাফল্য। অথচ বাস্তবে একজন খেলোয়াড়ের চুক্তি বাতিল হওয়াকে ইতিহাসের বড় অর্জন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
ভারতের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে, বিশেষ করে হিন্দু নাগরিকদের প্রশ্ন রেখে ওয়াইসি বলেন, “একজন ক্রিকেটারের চুক্তি বাতিল হওয়ায় আপনারা মিষ্টি বিলি করছেন? তাহলে নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞেস করুন—এই বছর বাংলাদেশকে ১২০ কোটি টাকা অনুদান ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না।”
তিনি আরও জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং গত এক দশকে মোদি সরকার বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলারের ‘লেটার অব ক্রেডিট’ দিয়েছে।
ওয়াইসি বলেন, তিনি কোনো ধর্মের বিরোধী নন এবং কখনো হবেন না। তবে নির্যাতিতের পক্ষে ন্যায়বিচার চাওয়া যদি অপরাধ হয়, মোহসিন শেখ ও সুলেমান পাঠানের হত্যার বিচার দাবি করা যদি অপরাধ হয়—তাহলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই ‘অপরাধ’ তিনি করে যাবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে ক্রিকেটারকে ঘিরে এত প্রচার, তাকে একটি দল ১০ কোটি টাকায় কিনেছিল। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশকে ভারত সরকার শত শত কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
সবশেষে ওয়াইসি বলেন, তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়েই বলেছেন—বাংলাদেশে হিন্দুদের মন্দির রক্ষা করা জরুরি। কিন্তু মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের স্বার্থে মুম্বাই ও রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করে বলা হচ্ছে, ‘দেখো, আমরা একজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’
সূত্র: এএনআই
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ইসির অনুরোধে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল
যুদ্ধবিমান ইস্যুতে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনা, নজর রাখছে ভারত
বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান