Tuesday, January 6th, 2026, 3:15 pm

মুস্তাফিজুরকে নিয়ে ঘটনা বাংলাদেশ–ভারত কারও জন্যই ভালো হয়নি: অর্থ উপদেষ্টা

 

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার সূচনা বাংলাদেশ থেকে হয়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এতে বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকার যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে, তখন মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ থাকার বিষয়টি ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি না। উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা জানান, এ ঘটনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, ওই দিনের ক্রয় কমিটির বৈঠকে খেলাধুলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

পাল্টা প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা সরকারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এটি কেবল অর্থ-বাণিজ্যের বিষয় নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

নির্বাচনের দুই মাস আগে এমন ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ঘটনার সূচনা বাংলাদেশ থেকে হয়নি—এ বিষয়টি সবাইকে স্বীকার করতে হবে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাধুলা অনেক সময় একটি দেশের কূটনৈতিক দূত বা ‘এম্বাসেডর’ হিসেবে ভূমিকা রাখে। মুস্তাফিজুর রহমান একজন পরিচিত ও দক্ষ ক্রিকেটার। তাকে কোনো অনুগ্রহের ভিত্তিতে দলে নেওয়া হয়নি; যোগ্যতার কারণেই তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন। হঠাৎ করে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া ছিল দুর্ভাগ্যজনক। এরপর যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোও অনাকাঙ্ক্ষিত। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, হিটলারের শাসনামলেও অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন বিশ্বজুড়ে বিরোধিতা থাকলেও মানুষ সেখানে অংশ নিয়েছিল। তার মতে, দুই পক্ষই যদি বিষয়টি বিবেচনার সঙ্গে সমাধান করে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। সরকার চায় না রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই এনবিআর পুনর্গঠন বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এনএনবাংলা/পিএইচ