Wednesday, January 7th, 2026, 3:50 pm

মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশ, দিতে হবে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা আর্থিক জামানতের শর্ত আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসা বন্ড দিতে হবে—সে তালিকা সম্প্রতি প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে। সাতটি দেশ যুক্ত করার এক সপ্তাহ না যেতেই মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করা হয়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম

স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে (কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া) এই ভিসা বন্ডের শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন মোট ৩৮টি দেশ ভিসা বন্ডের আওতায় পড়ল। এসব দেশের বেশির ভাগই আফ্রিকার হলেও, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশও রয়েছে।

কত টাকা বন্ড দিতে হতে পারে

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন।

বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে তিনটি ধাপে—৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার এবং ১৫ হাজার ডলার।

আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ইন্টারভিউয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে ভিসা কর্মকর্তা এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।

ভিসা বন্ড কী

ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা বা জামানত। নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এই বন্ড নেওয়া হয়, যাতে তারা ভিসার শর্ত—বিশেষ করে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে দেশ ত্যাগ—মেনে চলেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

ভিসা ওভারস্টে হলে কী হয়

অনুমোদিত সময়সীমার বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করতে পারে।

বেশির ভাগ দেশ ভিসার সময় পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চাইলেও, ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতির ব্যবস্থা সাধারণত চালু করেনি।

আগে কোথায় ছিল ভিসা বন্ড

নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, তবে পরে তা কার্যকর রাখা হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু সেটিও পরে বাতিল করা হয়।

ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এনএনবাংলা/