দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পথে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচনটা হবে অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি রূপকভাবে বলি—এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো। ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও ইপিডির সহযোগিতায় ‘সিটিজেন অবজারভেশন ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্লামেন্ট ইলেকশন-২০২৬’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর মোর্চা অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি)।

বিগত তিনটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর ভূমিকা যথাযথ ছিল না বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য ৩০০টি সংস্থা আবেদন করেছিল। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ৮১টিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগের তিন নির্বাচনে যেভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়েছে, তা সন্তোষজনক ছিল না।”
নতুন নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা অতীতের সংস্থাগুলোর মতো কাজ করবেন না। নির্বাচনের মৌলিক বিষয়গুলোর যেন ব্যত্যয় না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের কারণে কমিশন যেন বিতর্কিত না হয়।”
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “এই নির্বাচনে আপনারা ফ্রি ও ফেয়ার কাজ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”
পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে সানাউল্লাহ বলেন, “পর্যবেক্ষকরা ইসির তৃতীয় নয়ন। আমরা চাই তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। নীতিমালার মধ্যে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএফইডির সদস্যসচিব হারুন উর রশীদ। তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলের পক্ষে বায়াসড প্রতিবেদন দেব না। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করেছি।”
তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে—দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষণ।
ইপিডির প্রকল্প পরিচালক অ্যানেসটাসিয়া এস উবাইয়া বলেন, “নির্বাচনে কে জয়ী বা বিজিত হয়েছে, সেটি আমাদের বিবেচ্য নয়। ভোটার ও জনগণের চাহিদার আলোকে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পর্যবেক্ষণই আমাদের লক্ষ্য।”
বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিপক এলমার বলেন, “স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপার্সন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান
পাবনার দুটি আসনের ভোট স্থগিত হয়নি: নির্বাচন কমিশন
ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশের