রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইন লিকেজের কারণে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না হাজারো পরিবার। বাধ্য হয়ে অনেকে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, লাকড়ি কিংবা বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা কয়েক দিন ধরেই গ্যাস সংকট চলমান। অনেক বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে আগুন জ্বলছে না। কোথাও ভোর বা গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য গ্যাস মিললেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একবেলার খাবার রান্না করতেই হিমশিম খাচ্ছে অনেক পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কাফরুল, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, শনিরআখড়া, মগবাজারের নয়াটোলা, চেয়ারম্যানগলি, রামপুরা, বাড্ডা, বাসাবো, উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, রায়সাহেব বাজার ও লক্ষ্মীবাজার এলাকাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অপারেশন ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, আমিনবাজার থেকে আসা গ্যাস পাইপলাইনটি বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে লিকেজ হয়েছে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে রাখা হয়েছে।”
সাইদুল হাসান জানান, গত তিন দিন ধরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল যৌথভাবে মেরামতের কাজ করছে। বুধবার একটি লিক ক্ল্যাম্প বসানো সম্ভব হলেও পুরোপুরি মেরামত শেষ হয়নি। তিনি আরও বলেন, “বিশেষ আকারের নতুন লিক ক্ল্যাম্প তৈরি করে আবার কাজ শুরু করতে হবে। আপাতত লিকেজের পরিমাণ কিছুটা কমানো গেছে। ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হবে।”
তিনি জানান, গ্যাস না থাকার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে। কয়েক দিনের চেষ্টায় লিকেজের স্থান চিহ্নিত করে তা সারানো হয়েছে। তার ভাষায়, “এখন ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যেই সংকটের সমাধান হবে।”
ঢাকার অন্যান্য এলাকার সংকট প্রসঙ্গে সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের বৈধ গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অবৈধ সংযোগের কারণে অনেক এলাকায় বৈধ গ্রাহকরাও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি অনেকটা চোর-পুলিশ খেলার মতো। আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে আবার অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া হয়। এতে বৈধ গ্রাহকরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
এদিকে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এলপি গ্যাস বা সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশের
বিহারের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশি ৪ সাংবাদিক
হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন বিএনপি প্রার্থীর