February 26, 2026
Sunday, January 11th, 2026, 6:29 pm

মাদুরোর মতো পুতিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

 

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাশিয়া থেকে আটক করে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করতেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক দিনের সফরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান—যা বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুতিনকে ‘মাদুরো স্টাইলে’ ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদে বৈঠক করেন জন হিলি। সেখানে তিনি জানান, সম্ভাব্য শান্তিরক্ষা মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রিটেন ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবে।

কিয়েভে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার স্থান পরিদর্শনের সময় কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট–কে জন হিলি বলেন, যদি কোনো বিশ্বনেতাকে আটক করার সুযোগ থাকত, তবে তিনি পুতিনকেই হেফাজতে নিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেন। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তারের ঘটনার পরপরই তিনি এই মন্তব্য করেন।

হিলির মতে, পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বুচা ও ইরপিনে বেসামরিক মানুষ হত্যা এবং ইউক্রেনীয় শিশুদের জোরপূর্বক অপহরণ। ২০২২ সালের এপ্রিলে বুচা মুক্ত হওয়ার পর সেখানে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের মে মাসে জন হিলি ওই হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন।

এর আগে, ২০২৩ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, শত শত ইউক্রেনীয় শিশু—যাদের মধ্যে অনেক এতিমও রয়েছে—জোরপূর্বক রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন পরিদর্শনের সময় জন হিলি বলেন, পুতিন কেবল যুদ্ধ চালিয়েই যাচ্ছেন না, বরং শীতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মানুষটিকে থামাতে হবে, এই যুদ্ধ থামাতে হবে।”

এনএনবাংলা/পিএইচ