Sunday, January 11th, 2026, 6:41 pm

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

 

মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোতে এতদিন বিষয়টি স্ত্রী অনুমতি ছাড়া অপরাধ ও নৈতিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। তবে এবার এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত রায় দিয়েছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্ত দেন। আদালত বলেন, বিদ্যমান আইনে কোথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই যে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। বরং দ্বিতীয় বিয়ের অনুমোদনের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত।

২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির ক্ষমতা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত। ফলে স্ত্রীর অনুমতিকে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে ধরা যায় না।

এর আগে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পুরুষের ক্ষেত্রে সেই বিধান পরিবর্তন করা হয়। তখন থেকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করা হয় এবং অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে পারে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান তারা।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আর্থিক সামর্থ্য ও মানসিক প্রবণতার কারণে অনেক পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগের অপব্যবহার করতে পারেন, যা সমাজে বৈষম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। সে কারণে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন।

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, বিষয়টি আপিল বিভাগে গেলে তা দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করবে।

এনএনবাংলা/পিএইচ