Monday, January 12th, 2026, 5:44 pm

মুস্তাফিজ দলে থাকলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে- আইসিসির চিঠি

 

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর করতে বাংলাদেশ দল যাবে না। এ সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেওয়ার বিষয়টি। নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়েই ভারত মুস্তাফিজকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করতে দেয়নি এবং সেই একই কারণেই বিসিবিও ভারত সফরের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।

সম্প্রতি আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বিসিবিকে একটি চিঠি দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দল গেলে কিছু নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মুস্তাফিজকে দলেও রাখলে দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

আজ বাফুফে ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির চিঠিতে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যা বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলতে পারে। তিনি বলেন,

১. দল যদি মুস্তাফিজকে অন্তর্ভুক্ত করে,

২. সমর্থকরা জাতীয় জার্সি পরিধান করে ঘোরাফেরা করলে, এবং

৩. বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগোবে, তত দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

আইসিসির এই অবস্থানকে উপদেষ্টা “উদ্ভট ও অযৌক্তিক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের প্রধান বোলারকে বাদ দেব, সমর্থকরা জার্সি পরবে না এবং খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতে বর্তমানে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে। গত ১৬ মাস ধরে চলা অব্যাহত প্রচার-প্রচারণার কারণে সেখানে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে গেছে। মুস্তাফিজের ইস্যু ও আইসিসির চিঠি এটি আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে।”

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সুযোগ হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ক্রিকেটের ওপর কোনো এক দেশের মনোপলি থাকা উচিত নয়। আইসিসি যদি সত্যিই একটি গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হয় এবং ভারতের কথায় প্রভাবিত না হয়, তবে অবশ্যই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমরা কোনো রকম আপস করব না।”

পাকিস্তানে বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলার বিষয়ে তিনি জানান, “পাকিস্তান বা ইউএই-তে খেলার কোনো সমস্যা নেই। যেখানে আমাদের খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নেই, সেই উগ্র শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারত যে বাধ্য করছে—এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে ভারতের কোনো স্থানে আমাদের খেলার পরিবেশ নেই।”

এনএনবাংলা/পিএইচ