সরকারি সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় সাইন্সল্যাব অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে সাইন্সল্যাব এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
সাভার পরিবহনের যাত্রী সাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমার গন্তব্য সদরঘাট। দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে আছি। সঙ্গে প্রায় ২০ কেজি দুধ রয়েছে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল—সব ধরনের যানবাহনই স্থবির হয়ে আছে। কোথাও এক ইঞ্চিও নড়াচড়া নেই।’
মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রহমান জানান, ‘প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। সামনে-পেছনে কোনো দিকেই যাওয়ার সুযোগ নেই। হাসপাতালে এক স্বজন ভর্তি আছেন, তাকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল—কিন্তু পারছি না। আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগ আর চাই না।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে জানুয়ারির প্রথম দিকেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে নামেন।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধ্যাদেশটির চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি গ্রহণ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ইসলামী আন্দোলনকে বাদ রেখেই জামায়াত জোটের জরুরি বৈঠক
ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা চাইল বিএনপি
ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুই আসনে নির্বাচন