নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে জোটের বাকি ৯ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে তাদের দলের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। তিনি বলেন, “সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
এদিকে বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ একাধিক শীর্ষ নেতা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
অন্যদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহুমাত্রিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক নীতির ভিত্তিতে যে সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল, তা জনগণের মধ্যে প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। যদিও সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তবুও এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট নেতারা বহুমুখী ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপযোগী অবস্থা তৈরি হবে, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সব দল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে অবহিত করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আলাদা করার দাবিতে এর আগে ইসলামী আটটি দল যৌথ কর্মসূচি পালন করছিল। এসব দল হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরবর্তীতে আসন সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর এই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ক্রিকেটারদের বয়কটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করল বিসিবি
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা কেন অপরিহার্য
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ