Thursday, January 15th, 2026, 5:33 pm

গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা হলে ন্যাটোর অবসান হবে: ডেনমার্ক

 

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা শুধু একটি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নয়, বরং উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর ঐক্য, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমারেখা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেটিই হবে ন্যাটোর শেষ পরিণতি।

তিনি বলেন, ন্যাটো গঠিত হয়েছে একটি মৌলিক নীতির ওপর—এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ মানেই পুরো জোটের ওপর আক্রমণ। সেই জোটের ভেতরেই যদি কোনো শক্তিশালী সদস্য তার মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের চিন্তা করে, তাহলে ন্যাটোর নৈতিকতা ও কৌশলগত ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার মতে, রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে দ্বীপটির মালিকানা ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি।

তবে আর্কটিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নাকচ করে দেন রাসমুসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা সেখানে কোনো চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখিনি। গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনো বিনিয়োগও নেই।’

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বীপটির স্থানীয় জনগণ স্বাধীনতা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে নয়। এর অন্যতম কারণ হলো ডেনিশ রাষ্ট্রের অধীনে তারা যে বিস্তৃত সামাজিক কল্যাণ সুবিধা পেয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কল্যাণ ব্যবস্থার ব্যয় বহন করবে।’

তবে সার্বভৌমত্ব নিয়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেও ডেনমার্ক কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে। রাসমুসেন জানান, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এই গ্রুপের লক্ষ্য হলো ডেনমার্ক রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডসংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা।

আর্কটিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। অঞ্চলটি যাতে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত না হয়, সে জন্য গত বছর আর্কটিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/