Saturday, January 17th, 2026, 5:16 pm

ইসির শুনানিতে মিন্টু-হাসনাতের বাকবিতণ্ডা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

 

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানিকালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও আলোচিত ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে নির্বাচন ভবনে হট্টগোল শুরু হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিলের শুনানি চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবীদের ব্যাখ্যা জানতে চায় নির্বাচন কমিশন। আইনজীবীরা তাদের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। পরে কমিশন শুনানি আধা ঘণ্টার জন্য মুলতবি ঘোষণা করে।

সিইসির নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা আসন ত্যাগ করার পরপরই মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা আইনজীবীরা জড়ো হন। এ সময় তাদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সেখানে উপস্থিত বিরোধী পক্ষের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ওইদিন দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত আপিলের শুনানি ছিল।

এ সময় অডিটোরিয়ামে অন্য একটি আপিলের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহ। মিন্টুর ক্ষোভ প্রকাশে আপত্তি জানালে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আইনজীবীরা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সরিয়ে নিলে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল এগিয়ে এসে হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিরতির পর পুনরায় শুনানি শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বল প্রয়োগেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি কমিশনের কাছে রুলিং দাবি করেন।

এ সময় আরেক আইনজীবী অভিযোগ করেন, শেরপুরের একটি আসনের বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শুনানি শেষে নির্বাচন ভবনের সামনে তার মক্কেলকে মারধর করেছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা ঘটনাটি শুনেছি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আশা করছি, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের আচরণ করবেন না।” তিনি এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ