Monday, January 19th, 2026, 4:08 pm

সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, নেপথ্যে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ‘সাইকো’ সম্রাট: পুলিশ

 

সাভারে ধারাবাহিক ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো আচরণ করলেও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এর আগে, রোববার বিকেলে সাভার থানার সামনের এলাকা থেকে সম্রাটকে আটক করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন।

রোববার দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রোববার রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সম্রাটসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার ভবন থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “সম্রাট বাইরে থেকে পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি প্রকৃত অর্থে পাগল নন। সাইকো টাইপের এই ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে একে একে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এখনো তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এখন পর্যন্ত মাত্র একজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ডটি করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে। সেদিন সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এরপর একই বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে দেন। প্রায় এক মাস পর, ১১ অক্টোবর একই স্থান থেকে আরেক নারীর লাশ উদ্ধার হয়, যাকেও তিনি হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ওই ভবনের ভেতর আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেন তিনি।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার আরও এক ভবঘুরে নারীকে সেখানে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছেন, ওই রাতেই তাকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার।

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, “সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরতেন এবং অসংলগ্ন কথা বলতেন। এ কারণে অনেকেই তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে করত। তবে বাস্তবে তিনি পাগল নন।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তার সঙ্গে আরও কোনো হত্যার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং এসব ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না—সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হবে।

এনএনবাংলা/পিএইচ