Monday, January 19th, 2026, 9:52 pm

ভোটের আগে প্রবাসী আয়ে চাঙাভাব, ১৮ দিনে দেশে এসেছে দুই বিলিয়ন ডলার

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবারের বাড়তি খরচ মেটানোর পাশাপাশি দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগে, ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় হয়েছে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ছিল ৩২৯ কোটি ডলার, গত বছরের মার্চে ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। ফলে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২.২ শতাংশ।

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যান (চলতি অর্থবছর)

জুলাই ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্ট ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৬২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৮ বিলিয়ন ডলার।

এনএনবাংলা/