Tuesday, January 20th, 2026, 1:11 pm

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি

 

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল নতুন এ তারিখ ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে আজই এ মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করা হলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মামলাটিতে মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং চারজন পলাতক। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।

পলাতক চার আসামি হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সাফাই সাক্ষী হিসেবে আরশাদ হোসেনসহ আরও তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর শুরু হয় যুক্তিতর্ক।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে তিনি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে আরও সাক্ষ্য দেন শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, নিউমার্কেট এলাকার দোকানকর্মী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী শহীদ আহমেদ এবং শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হক। তারা সবাই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ প্রসিকিউশনের অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের মক্কেলদের বেকসুর খালাসের আবেদন জানায়। গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

এনএনবাংলা/পিএইচ