দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ। আজ রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তিনি বলেন, “জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন। সবাই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করবেন।”
পরবর্তীতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিনেতার স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী। তিনি জানান, “সকালে নার্স এসে জানায় যে তার শরীর ভালো নেই, সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকদিন ধরেই তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে মৃত্যুর আগের কিছু সময় তিনি বাসায় ছিলেন।”
কিংবদন্তি এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার হৃদরোগের সমস্যাও ছিল। এর আগে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
চলচ্চিত্রে ইলিয়াস জাভেদের পথচলা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার পরই দর্শকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। ওই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবানা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দক্ষ নৃত্য পরিচালকও। তার আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে পরিচিত।
ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরবর্তীতে তিনি পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে আসেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই প্রবাদপ্রতিম অভিনেতার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
বগুড়া-৬ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পেলেন তারেক রহমান
আমরা থাকব না, গণভোট শত বছরের দিকনির্দেশনা দেবে: উপদেষ্টা আদিলুর
রাতে সিলেট যাচ্ছেন তারেক রহমান