Wednesday, January 21st, 2026, 2:29 pm

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জয় ও পলকের বিচার শুরু

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে দুই আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষে আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ। অভিযোগ পাঠ শেষে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন, যার মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন জুনাইদ আহমেদ পলক। তাকে বুধবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপরদিকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন মনজুর আলম।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন পলকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। শুনানিতে তারা প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করেন এবং জয় ও পলকের সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করে অভিযোগ গঠন না করে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, তারা ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেন। এতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন শহীদ হন।

তৃতীয় অভিযোগে উত্তরায় সংঘটিত ৩৪ জন হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায় তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ