জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ করতে যাচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মূল বেতন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। যদি সুপারিশ কার্যকর হয়, সর্বনিম্ন মূল বেতন দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা, আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোতে মোট ২০টি ধাপ থাকবে।
বর্তমান অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা আগের মতোই বজায় থাকবে। এতে ঢাকায় সর্বনিম্ন ধাপের (২০তম গ্রেড) একজন কর্মীর মাসিক বেতন দাঁড়াবে প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
এছাড়াও, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এর আগে ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীরা যাতায়াতের ভাতা পেতেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এটি ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
পেনশনভোগীদের জন্যও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন ভোগীদের জন্য বৃদ্ধি হবে প্রায় ১০০ শতাংশ। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে যাঁদের পেনশন, তাঁদের জন্য বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য বৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫৫ শতাংশ।
পে কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান সমকালকে বলেন, “আজই আমরা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেব। এতটুকু বলতে পারি, প্রস্তাবটি অত্যন্ত ভালো হয়েছে।”
গত ২৪ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো তৈরি করতে পে কমিশন গঠন করে। জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর আজ কমিশন প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার কি সময়মতো এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই বেতন স্কেলের আওতায় বেতন ও ভাতা পান।
বর্তমান কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড) মাসে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া নবম গ্রেডের বেতন মাসে ২২ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ধাপে একজন সচিব মাসে ৭৮ হাজার, জ্যেষ্ঠ সচিব ৮২ হাজার এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন পান।
মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তারা বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হয়।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি: মাহদী আমীন
খামেনির দিকে হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে: ইরান সেনাবাহিনী
বাংলাদেশ ভারতে না খেললে বিকল্প দল নেবে আইসিসি