Wednesday, January 21st, 2026, 8:32 pm

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি: মাহদী আমীন

 

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি জানান, দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—নির্বাচনি প্রচারণায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমীন বলেন, জুলাই চার্টার তথা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির যে অবস্থান ছিল, সেখানে কিছু নোট অব ডিসেন্ট ছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিএনপি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। দলের ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যেই সংস্কারের মৌলিক ভিত্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। নোট অব ডিসেন্টগুলো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তবে সামগ্রিকভাবে দলের সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই থাকবে। তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর বার্তা, বহিষ্কার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও আলোচনার পরও ৭৯টি আসনে বিএনপির অন্তত ৯০ জন নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মাহদী আমীন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চলেছে। দেশের মানুষ যেমন দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তেমনি অনেক ত্যাগী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচন হওয়ায় বিএনপির মতো বড় দলে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি আসনে একজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, অনেক আসনে একাধিক ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতা রয়েছেন, যারা মনে করছেন মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপরও কেউ প্রার্থী হিসেবে থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

মাহদী আমীন আরও অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় পোস্টাল ব্যালটের নামে সংগঠিতভাবে ভোটারদের আইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে। তিনি জানান, বিএনপি নেতাদের ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবং অপপ্রচারের বিপরীতে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রকৃতভাবে প্রতিফলিত হলে বিএনপি জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে।

এনএনবাংলা/পিএইচ