Thursday, January 22nd, 2026, 9:38 pm

নিরাপত্তা ও রাজনীতির কারণে যে সব বিশ্বকাপে আয়োজক দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দল

১৯৯৬ বিশ্বকাপে কলম্বোয় খেলতে না চাওয়া অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে হেরে যায় শ্রীলঙ্কায় কাছে। ছবি: পিএ

 

টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। দফায় দফায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত আয়োজক দেশ ভারতেই খেলার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

তবে ক্রিকেট ইতিহাসে এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অতীতেও একাধিক দল আয়োজক দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এমনই ৫টি আলোচিত বিশ্বকাপ ঘটনা—

১৯৯৬ বিশ্বকাপ: শ্রীলঙ্কায় খেলেনি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ

১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কলম্বোয় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও সংহতি জানিয়ে ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফর করে, তবু অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শ্রীলঙ্কা পায় ওয়াকওভার। ব্যতিক্রমী কাকতালীয়ভাবে সেই বিশ্বকাপেই শিরোপা জেতে শ্রীলঙ্কা।

২০০৩ বিশ্বকাপ: জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় খেলেনি ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড

২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ হিসেবে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া নিয়ে আপত্তি তোলে দুটি শক্তিশালী দল। রবার্ট মুগাবে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদে ইংল্যান্ড সরকার জিম্বাবুয়ে সফরে আপত্তি জানালে ইংল্যান্ড দল সেখানে খেলতে যায়নি। অন্যদিকে, কেনিয়ার মোম্বাসায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় কেনিয়া সফর বাতিল করে নিউজিল্যান্ড। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় দুই দেশই পয়েন্ট পায় ওয়াকওভারের মাধ্যমে।

২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: জিম্বাবুয়ের স্বেচ্ছা প্রত্যাহার

২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের ব্রিটিশ ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
টুর্নামেন্টে জটিলতা এড়াতে এবং আয়োজক ইংল্যান্ডকে বিব্রত না করতে জিম্বাবুয়ে নিজেরাই বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
তাদের পরিবর্তে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।

২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: বাংলাদেশে আসেনি অস্ট্রেলিয়া

২০১৫ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই একই উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেও নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করলেও অস্ট্রেলিয়ার বদলে আয়ারল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: পাকিস্তানে ভারতের ‘না’

দীর্ঘ ২৯ বছর পর পাকিস্তানে আইসিসি টুর্নামেন্ট ফেরার কথা থাকলেও ভারত সরকার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘ আলোচনার পর ‘হাইব্রিড মডেল’ চূড়ান্ত হয়, যেখানে ভারতের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হয় দুবাইয়ে। শেষ পর্যন্ত ভারতই সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেও এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে বড় ধরনের বিতর্ক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

এনএনবাংলা/