Friday, January 23rd, 2026, 7:59 pm

জামায়াত প্রার্থী ডা.খালিদুজ্জামানের ডিগ্রি নিয়ে যা বললেন তাঁর শিক্ষক ডা. মৃণাল কুমার

 

জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে কয়েকদিন আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করে বিএমডিসি। অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ডা. খালিদুজ্জামানকে শোকজ করে, যিনি বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে বিএমডিসি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‌‌‘আমাদের কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভেরিফিকেশন করে দেখা গেছে, এমবিবিএস ডিগ্রির পর ডা. খালিদুজ্জামানের অতিরিক্ত কোনো ডিগ্রি বিএমডিসিতে নিবন্ধিত নেই। সে কারণেই তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. এসএম খালিদুজ্জামান বলেন, প্রথমত একজন এমবিবিএস পাস ডাক্তার যদি কনফিডেন্ট ফিল করেন, তাহলে তিনি কাজ করতে পারেন। দ্বিতীয়ত আমার যে সাবজেক্ট ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলোজি এটা বাংলাদেশে নেই, শুধু বিদেশে আছে, তাও খুব কম দেশে।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এই কাজের যা কিছু হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ আমার হাসপাতালেই হয় এবং আমিই করি। এই কাজের সাকসেস রেট নিয়ে আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি অন্যদের কাছে এর ২০ শতাংশও নেই।

ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. এসএম খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আমার কোনো পরিচয়পত্রে বা হাসপাতালের অফিসিয়াল ডকুমেন্টে এই ডিগ্রি ব্যবহার করা হয়নি। তবে একটি প্রমোশনাল ভিডিওতে ডিগ্রিটি ব্যবহার হয়েছে, এটা আমার নজরে এসেছে। এটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের ভুল। এটা কোনো গুরুতর বিষয় না। যেহেতু এই ডিগ্রিটি বাংলাদেশে নেই, তাই আমরা অনুমোদনের জন্য বিএমডিসিতে আবেদন করব।’

এদিকে ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলোজি ডিগ্রির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দেশ বরেণ্য চিকিৎসক ডা. মৃণাল কুমার সরকার। যিনি বাংলাদেশের আইভিএফ ও এআরটি চিকিৎসা পদ্ধতির অগ্রদূত।

এক ডিডিও বার্তায় ডা. মৃণাল কুমার সরকার বলেন, “ডা. খালিদুজ্জামানের সাথে আমার পরিচয় অনেক আগে থেকে। আমি যখন খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ছিলাম, সে আমার ছাত্র ছিল। যে আলোচনায় এসেছে সামাজিক মাধ্যমে, সুপার স্পেশালিটি বা ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজিতে যে মাস্টার্স করেছে।

আমি অ্যাকচুয়ালি এটাতে রিকগনিশনের (Recognition) ব্যাপারে বা রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে এই জিনিসগুলোর মধ্যে আমি ইনভল্ভ এবং আমি প্রফেসর টি এইচ চৌধুরী, আমাদের শিক্ষক গুরু, উনি এখন নেই, উনার মাধ্যমে এবং সোসাইটি অফ অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজির মাধ্যমে আমি বিএমডিসিতে এই ডিগ্রিটাকে রিকগনাইজ করার জন্য আমরা বহু চেষ্টা করেছি।

কিন্তু সমস্যা হলো এই সাবজেক্টটা এতই নতুন যে বিএমডিসি তখন প্রশ্ন তুলেছে—এই সাবজেক্টটা কী? কিসের ডিগ্রি এটা? যেখানে নির্ধারকদের কাছেই এই ডিগ্রিটা পরিচিত না, সেখানে একটু তো কনফিউশন হতেই পারে এই আননোন (অপরিচিত) একটা ডিগ্রিকে কীভাবে রিকগনাইজ করা যায় বা ফরমেটে আনা যায়।

তো সেই প্রশ্ন কিন্তু আমরা বিএমডিসি থেকেই শুনেছি এবং বিএমডিসির মাধ্যমে এটাকে রেগুলারাইজ করা বা তাদের কগনিজেন্সে নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিএমডিসি এই ডিগ্রি সম্পর্কে তখন পর্যন্ত ওয়াকিবহাল ছিলেন না—যে এই ডিগ্রিটা কী, কী কাজ করা হয়, এই ডিগ্রিটা কোন সাবজেক্টের মধ্যে থেকে আসছে।

তো সেটার ব্যাপারে তো বিএমডিসি জানার কথা, তাদের কাছে এটা অ্যাপ্রোচ হয়েছে। এখন যদি কোনোদিন এই ডা. খালিদুজ্জামান বা তার লেভেলের বা ওই ধরনের কোনো লোক রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আসে, তাহলে এইসব ডিগ্রিগুলোকে অন্তত বুঝাতে সমর্থ হবে—এটার গভীরতা কী এবং প্রয়োজনীয়তা কী, যাতে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এ ধরনের কোনো কনফিউশন না থাকে।”

এনএনবাংলা/