মুরাদনগর(কুমিল্লা)প্রতিনিধিঃ
মুরাদনগর উপজেলা গোমতী নদী দক্ষিণে ছয় ইউনিয়নের মানুষ সড়ক উন্নয়নের আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় ছিল। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপি ইউসুফ হারুন জনগণের টাকায় রাস্তা উন্নয়নের নামে কর্মীদের পকেট ভারী করেছে। যার ফলে উপজেলার দারোরাসহ ছয় ইউনিয়নে সড়ক উন্নয়ন হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের রমজানের আগে মুরাদনগরের নফল চৌমুহনী থেকে দারোরা ইউনিয়নের দারোরা-পালাসুতা মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর মার্কেট পর্যন্ত পিচঢালা রাস্তার কাজ শুরু হলেও ঈদ সামনে রেখে কাজ শেষ না করেই টাকা অর্ধেক তুলে নিয়ে পালায় ঠিকাদার। পরে ২৪ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে আবার কাজ শুরু হয়। কিন্তু জনগণের ভোগান্তিত কমেনি। হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে ঠিকাদারও পালায়।
গত এপ্রিলে আবার কাজ শুরু হয় আসিফ মাহমুদের তদারকিতে। কিন্তু উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করায় তিনি এলাকার উন্নয়নে তেমন খোঁজ-খবর না রাখায় ঠিকাদার নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ বাধ সাথে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তায় ফেলানো নিম্ন মানের ইটের খোয়া ভেঙ্গে ধূলামলিন হচ্ছে যাত্রীবাহী যানবাহন ও যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কোনো প্রদক্ষেপ নেয়নি জেলা সড়ক বিভাগ। উপজেলা প্রশাসনকে তদারকি করতে বলা হলেও দায়সারা তদারকিতে পার পেয়ে যায় ঠিকাদার। কর্মে নিয়োজিত ঠিকাদার খরচ বেশি হওয়ার কথা বলে কিছু বিল তুলে নিয়ে গত ডিসেম্বরে গাঢাকা দেয়। হতাশার সৃষ্টি হয়েছে
স্থানীয় জনগণের মাঝে। একটি সূত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি দারোরা ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বারের যোগসাজশে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা পূণনির্মাণের নামে রায়তলা থেকে দারোরা সংযোগ সড়ক নির্মাণে দুই নম্বর ইট’ বা নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করে জনগণের বাঁধায় কাজ ছেড়ে পালায়। দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা রাস্তার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী শুরুতে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নির্মাণ শেষ না করে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় রাস্তায় চলাচল করা রিকশা সিএনজি ও অটো রিকশার যাত্রীরা প্রতিদিনই করুণ ভোগান্তিতে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে খুঁজে বের করে দ্রুত রায়তলা-দারোরা সড়ক মেরামতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে তদারকির দায়িত্ব দিয়ে জনভোগান্তি লাঘবে সরকার আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে এলাকাবাসী আশা করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণ জানায়, এই রাস্তায় যে ইট ব্যবহার করা হয়েছে, তার মান নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়েছে। দরপত্র অনুযায়ী মানসম্মত ইট ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। নাকি কম দামের ইট ব্যবহার করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটেছে ঠিকাদার এটাই এখন মানুষের প্রশ্ন।
অনেকের মতে, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ সড়ক প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তদারকি করা হয়নি। ফলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি সওজ দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কিছু প্রকল্পেও অনিয়মের আশঙ্কার কথা জানান। জোরালো দাবি দ্রুত সড়ক বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন করে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় উন্নত মানের ইট বা উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত সড়কে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নিতে হবে। নিহয় সরকারের ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এলাকাবাসী দারোরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের দৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

আরও পড়ুন
অবহেলিত হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াকে আলোকিত জনপদে রূপান্তর করা হবে- প্রিন্স
সমাজ থেকে অন্যায় জুলুম দূর করতে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইলেন:অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন
নাটোরে যুবদল নেতা কাবির হোসেন কাঙ্গাল আটক