গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
গঙ্গাচড়ায় বিএনপির পথ সভায় জামায়াত শিবিরের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে। হামলার বিষয় চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা সমালোচনার ঝর উঠে। সাধারণ মানুষও মিছিল ও পথ সভায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে বলেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তুলশীরহাট এলাকায় ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায়। ওইদিন রাত ১১ টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২২ তারিখ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে বিকালে প্রার্থীকে নিয়ে নেতাকর্মী মিলে নোহালী ও আলমবিদিতর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় ভোটারের দারে দারে ঘুরি এবং পথ সভা করি। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তুলশীরহাটে পথ করি। সেখানে আমার বক্তব্যর মাঝখানে পিছন থেকে একটি ছেলে কাউন্টার দিলে চিল্লাচিল্লি শুরু হলে আমি মাইকে সবাইকে শান্ত থাকতে বলি এবং বিষয়টি সেখানেই সমঝোতা হয়। তিনি আরো বলেন, আমার বক্তব্যর শেষে প্রার্থী বক্তব্য দেন। প্রার্থীর বক্তব্য শেষ করে প্রার্থীকে নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে রওয়ানা দেয়। এ সময় আমি মিছিলের পেছনে ছিলাম। আমাকে পিছনে দেখে জামায়াত শিবিরের ১০/১২ ছেলে বেকি নিয়ে আমাকে আক্রমণ করতে আসে এবং একটি ছেলে আমার মাথায় চোট মারার চেষ্টা করলে আমার সাথে থাকা গোলাম রব্বানী আমাকে সরিয়ে দিলে আমি বেঁচে যাই। পরে তারা আবার আক্রমণ করার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের রক্ষা করে। আমাকে আক্রমণ কারী দুজনের পরিচয় জানতে পেরেছি তারা হলো তুলশীরহাট এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে সাকলাইন ও হোসাইন। দুজনে মার্ডার কেসের আসামী। তিনি আরো বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথ সভা ও মিছিল করেছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই বলেই আমরা কোন ধরনের পাল্টা আক্রমণ করি নাই। আমরা সংখ্যায় বেশি এবং জনতা আমাদের পাশে ছিলো তারা মাত্র ১০/১২ জন ছিলো। তিনি দাবি করেন জামায়াত শিবিরের লোকজন আমাকে হত্যার জন্য মাথায় বেকি দিয়ে চোট মারার চেষ্টা করে। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত সদস্য গোলাম রব্বানী রঞ্জু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহিন আলম সোনাসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নায়েবুজ্জামান বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম বিএনপি ও আমরাও শান্তিপূর্ণভাবে চালাচ্ছি। কিন্তু বিএনপির পথ সভায় জান্নাতের টিকিট নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমাদের একজন সমর্থক প্রতিবাদ জানালে তারা উত্তেজিত হয়। পরে আমাদের ওই সমর্থক সরে যায়। আরেক সমর্থক ভিডিও করলে তাকে মারপিট করে বিএনপির লোকজন। বিষয়টি জেন বাড়াবাড়ি না হয় সেজন্য আমি বিএনপির সভাপতিকে ফোন দিয়ে বলি আমরা সবাই বসে সমাধান করব। বিএনপি, জামায়াত শান্তিপূর্ণ ভোট চায় এখানে হয়তো তৃতীয় পক্ষ কিছু ছড়াচ্ছে। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, থানায় ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, উভয় পক্ষকে সর্তক করা হয়েছে এবং নির্বাচন আচরণ বিধির বর্হিভূত কোন কর্মকান্ড থেকে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন
অবহেলিত হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াকে আলোকিত জনপদে রূপান্তর করা হবে- প্রিন্স
সমাজ থেকে অন্যায় জুলুম দূর করতে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইলেন:অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন
নাটোরে যুবদল নেতা কাবির হোসেন কাঙ্গাল আটক