Friday, January 23rd, 2026, 8:48 pm

দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায় শেষ করতে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই : মিয়া গোলাম পরওয়ার

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা জামায়াতে ইসলামীকে কুফুরি ও শিরকের সঙ্গে তুলনা করে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননা।
তিনি বলেন, আল্লাহ, রাসূল (সা.), ফেরেশতা, পরকাল ও তাকদিরে বিশ্বাসী কোনো মুসলমানকে কুফুরি বলার অধিকার কারও নেই। হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি অন্য মুসলিমকে কাফের বলে, সেই অপবাদ তার নিজের ওপরই বর্তায়। ইসলাম সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ও গবেষণা ছাড়াই এমন মন্তব্য একটি মুসলিম দেশের রাজনৈতিক নেতার জন্য চরম লজ্জাজনক। এই বক্তব্যে জনগণ বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একা ছিল না। মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম, পিডিপি এবং বামপন্থী কমিউনিস্ট দলসহ বহু রাজনৈতিক দল সে সময় ভারতীয় আগ্রাসনের আশঙ্কা থেকে ভিন্ন রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েছিল। ইতিহাস বিকৃত না করে এই বাস্তবতা স্বীকার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের এই অন্ধকার অধ্যায় শেষ করতে হলে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বলেন, অর্থনীতিতে প্রকাশ্য লুটপাট, বিচার ব্যবস্থাকে দলীয় যন্ত্রে পরিণত করা, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং ভিন্ন মত দমনে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
এই ধ্বংসাত্মক বাস্তবতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ ১০ দলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় একাধিক গণসংযোগ ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত আবাসিক এলাকা, আল আকসা, ফলইমারী, শিবপুর, বাদুরগাছা এলাকায় গনসংযোগ ও উঠান বৈঠককালে উপস্থিত ছিলেন-খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, হরিণটানা থানা কর্মপরিষদ সদস্য লিখন হোসেন, মতিয়ার রহমান, আব্দুর রশীদ মল্লিক, শহিদুল ইসলাম, ডা. ইলিয়াস হোসেন,  তাজুল ইসলাম, আমীর হোসাইন, সালাহ উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাসেল গাজী, রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, আবু মুহসীন প্রমূখ। পরে সেক্রেটারি জেনারেলের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপি থেকে নাসির গাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। পরে বাদুরগাছা উঠান বৈঠক স্থানীয়দের মধ্যে নাসির গাজী, কামরুল ইসলাম গাজী, সাথী আক্তার, ওবায়দুল্লাহ সোহাগ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিকেলে ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৬ নং ওয়ার্ডের আটরা-গিলাতলা এলাকায় উঠান বৈঠকে মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।